এবার মরুর বুক থেকে মহাদেশীয় উন্মাদনার কেন্দ্র যেন বিষাদ আর বিলাসিতার এক অদ্ভুত মিশেল। আজ থেকে শুরু হলো ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ‘কাউন্টডাউন’; ঘড়ির কাঁটা বলছে আর মাত্র এক মাস। অথচ মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা থেকে নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত বিস্তৃত এ ফুটবল যজ্ঞের আকাশ এখন উৎসবের চেয়ে উদ্বেগের কালো মেঘেই বেশি আচ্ছন্ন। রেকর্ড ৪৮টি দল, তিনটি দেশ আর লাখো ভক্তের পদচারণায় মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় উত্তর আমেরিকা। কিন্তু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের আগে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে আকাশছোঁয়া টিকিটের দাম আর মধ্যপ্রাচ্যের বারুদগন্ধী রাজনীতি। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য একে ‘নেগেটিভ প্রেস’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন। বেভারলি হিলসের ঝলমলে আলোয় তিনি যখন বলেন, ‘এই বিশ্বকাপে নেতিবাচক কিছু খুঁজে পাওয়া কঠিন’, তখন ভক্তদের পকেটে যেন চরম উপহাসের সুর বাজে।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য নিয়ে। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালের গ্যালারিতে বসার সর্বোচ্চ দাম যেখানে ছিল ১,৬০০ ডলার, সেখানে এবার তা অবিশ্বাস্যভাবে দাঁড়িয়েছে ৩২,৯৭০ ডলারে। ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ (এফএসই) একে ‘চরম শোষণ’ ও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে আখ্যা দিয়েছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিস্ময় লুকিয়ে রাখতে পারেননি; স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফুটবল দেখতে এত অঢেল অর্থ তিনি নিজেও ব্যয় করতেন না।
তবে কেবল অর্থ নয়, যুদ্ধের করাল ছায়াও গ্রাস করেছে এই আসরকে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ফুটবল ইতিহাসে এই প্রথম কোনো আয়োজক দেশ টুর্নামেন্ট শুরুর প্রাক্কালে অংশগ্রহণকারী অন্য দেশের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত। ইরান তাদের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানালেও ফিফা তা নাকচ করে দিয়েছে। ইনফান্তিনোর সাফ কথা, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রেই খেলবে।’ ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই- ছয় সপ্তাহের এ মহোৎসবে মাঠের ফুটবলের সৌন্দর্য কি পারবে রাজনীতির রক্তচক্ষু আর পুঁজিবাদের এই পাহাড়সম দেয়াল টপকাতে সব অনিশ্চয়তা ছাপিয়ে ফুটবল কি পারবে আবারও এক সুতোয় গাঁথতে বিবাদমান বিশ্বকে উত্তর মিলবে আজ থেকে ঠিক ৩০ দিন পর।