ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের কালাবুরাগি জেলায় অবস্থিত ডা. মালাকারেড্ডি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় নকল করতে বাধা দেওয়ায় এক সহকারী অধ্যাপকের ওপর শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে।
গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এনডিটিভির প্রতিবেদনে প্রকাশিত পরীক্ষাকক্ষের সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনার দৃশ্য ধরা পড়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হামলা করার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও ভিডিও ফুটেজে তার অপরাধ স্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছিল হোমিওপ্যাথিক মেটেরিয়া মেডিকা বিষয়ের পরীক্ষার সময়। সে সময় দায়িত্বরত সহকারী অধ্যাপক শিবরাজকুমার দেখতে পান শাহবাজ নামের এক শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নকল করছেন। অধ্যাপক তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র জব্দ করেন এবং তাকে পরীক্ষাকক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহবাজ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে অধ্যাপকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং তাকে মারধর শুরু করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কক্ষের অন্য শিক্ষার্থীরা দ্রুত এগিয়ে এসে শাহবাজকে জাপটে ধরেন এবং অধ্যাপকের কাছ থেকে সরিয়ে নেন। তবে মারমুখী ওই শিক্ষার্থী কিছুক্ষণ পর দরজার কাছে গিয়ে আবারও ফিরে এসে দ্বিতীয়বার অধ্যাপক শিবরাজকুমারকে আঘাত করেন। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় কলেজের পরিবেশ মুহূর্তেই থমথমে হয়ে ওঠে এবং অন্যান্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ শাহবাজের অভিভাবকদের বিষয়টি অবহিত করেছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের সব পরীক্ষা থেকে নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কলেজ প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
তবে মারধরের শিকার সহকারী অধ্যাপক শিবরাজকুমার এখন পর্যন্ত স্থানীয় থানায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি বলে জানা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ওপর এ ধরনের হামলা ভারতের একাডেমিক মহলে নতুন করে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার প্রশ্ন তুলেছে।