রাতের আকাশে আমরা যে তারা দেখি, সেগুলো সব সময় একরকম থাকে না। সময়ের সঙ্গে তাদের আচরণ বদলায়। বিজ্ঞানীরা এখন বলছেন, তরুণ নক্ষত্র (নতুন তারা) দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। এতে আশেপাশের গ্রহে জীবন গড়ে ওঠার সুযোগ বাড়তে পারে।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এক নতুন গবেষণায় এই তথ্য পাওয়া গেছে। তারা মহাকাশে থাকা শক্তিশালী দূরবীন দিয়ে নক্ষত্রগুলো পর্যবেক্ষণ করেছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, তরুণ নক্ষত্র থেকে অনেক শক্তিশালী এক্স-রে বের হয়। এই রশ্মি গ্রহের বাতাস (বায়ুমণ্ডল) নষ্ট করতে পারে। এতে জীবনের জন্য দরকারি উপাদান তৈরি হওয়া কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এই এক্স-রে আগের ধারণার চেয়ে অনেক দ্রুত কমে যায়।

গবেষণায় ৪৫ মিলিয়ন থেকে ৭৫০ মিলিয়ন বছর বয়সী নক্ষত্রগুলো দেখা হয়েছে। দেখা গেছে, সূর্যের মতো নক্ষত্রগুলো আগের হিসাবের তুলনায় অনেক কম এক্স-রে ছড়ায়। কিছু ক্ষেত্রে এটি আগের ধারণার মাত্র এক-চতুর্থাংশ।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন, নক্ষত্রের ভেতরে যে চৌম্বক শক্তি (ম্যাগনেটিক ফিল্ড) তৈরি হয়, তা সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে এক্স-রে কমে যায়। এই পরিবর্তনই গ্রহের জন্য ভালো হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সূর্যের মতো নক্ষত্র কয়েকশ মিলিয়ন বছরের মধ্যে দ্রুত শান্ত হয়ে যায়। কিন্তু ছোট নক্ষত্রগুলো বেশি সময় সক্রিয় থাকে।

গবেষকরা আরও বলেন, আমাদের পৃথিবীতে জীবন থাকার পেছনে সূর্যের এমন ধীরে শান্ত হয়ে যাওয়ার ভূমিকা থাকতে পারে। অর্থাৎ, সূর্যও একসময় অনেক বেশি শক্তিশালী ছিল, পরে ধীরে ধীরে শান্ত হয়েছে।

এই গবেষণায় নক্ষত্র মাপার যন্ত্র ইউরোপের গাইয়া স্যাটেলাইট ও পুরোনো তথ্যও ব্যবহার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন মনে করছেন, নক্ষত্র দ্রুত শান্ত হলে তার চারপাশের গ্রহে জীবন টিকে থাকার সম্ভাবনা বাড়ে।

বিডিপ্রতিদিন/কেকে



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews