দিনের শুরুটা যদি হয় সঠিক খাবার দিয়ে, তাহলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালের নাস্তায় এমন খাবার বেছে নেওয়া উচিত যা শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয় না।
অনেকেই সকালে খালি পেটে বিস্কুট, মিষ্টি চা বা সাদা পাউরুটি খেয়ে থাকেন। এসব খাবার দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। এর পরিবর্তে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বা লো গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সমৃদ্ধ খাবার বেছে নেওয়া বেশি উপকারী।
ওটস হতে পারে দিনের অন্যতম সেরা শুরু। এতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ বা সলুবল ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং গ্লুকোজ ধীরে ধীরে রক্তে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। ওটসের সঙ্গে কিছু বাদাম ও অল্প ফল মিশিয়ে খেলে তা আরও পুষ্টিকর হয়ে ওঠে।
ডিমও একটি চমৎকার ব্রেকফাস্ট অপশন। এতে পর্যাপ্ত প্রোটিন রয়েছে, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা ডিম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর।
অনেক পুষ্টিবিদ গ্রিক ইয়োগার্ট বা টক দই খাওয়ার পরামর্শ দেন। এতে থাকা প্রোটিন ও প্রোবায়োটিকস হজমে সহায়তা করে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমাতে সাহায্য করতে পারে।
চিয়া সিড, তিসি বীজ ও বিভিন্ন ধরনের বাদামও সকালের নাস্তায় যুক্ত করা যেতে পারে। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি বা হেলদি ফ্যাট, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান। ফলে শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ হয় এবং দীর্ঘ সময় সতেজ অনুভূত হয়।
সাদা আটার রুটি বা পরোটার পরিবর্তে হোল গ্রেইন ব্রেড বা লাল আটার রুটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এগুলো ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘ সময় রক্তে শর্করাকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
তবে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে। আপেল, নাশপাতি, কমলা বা বেরি জাতীয় ফল ভালো পছন্দ হলেও অতিরিক্ত মিষ্টি ফল একসঙ্গে বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শুধু একটি খাবার নয়, বরং পুরো জীবনধারা গুরুত্বপূর্ণ। সুষম খাদ্য, নিয়মিত হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ-সবকিছুই সমানভাবে প্রয়োজনীয়।
দিনের প্রথম খাবার যদি হয় সচেতনতার সঙ্গে বেছে নেওয়া, তাহলে শরীর যেমন থাকবে চাঙা, তেমনি রক্তে শর্করার মাত্রাও থাকবে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণে।