আলী রীয়াজ: ঐকমত্য কমিশন সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল না। কমিশনের লক্ষ্য ছিল সংস্কারের বিষয়গুলোর একটি এজেন্ডা তৈরি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একধরনের ঐকমত্য তৈরি করা। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে সাংবিধানিক সংস্কার করার চেষ্টা করা হয়নি, কিছু আইনের সংশোধন করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই করা হয়েছে, তারা সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু এটা ভুলে গেলে চলবে না যে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল কাঠামোগত সংস্কারের, অন্তর্বর্তী সরকারের সেটা একটা দায়িত্ব ছিল।
বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য সময়ের প্রয়োজন এ বিষয়ে সন্দেহ নেই, সে কারণেই ঐকমত্য কমিশন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের প্রস্তাব করেছে। যা গণভোটে জনগণের সম্মতি লাভ করেছে। সংস্কার ওই পরিষদ এবং নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই হবে। তবে এটা ঠিক যে কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে আরও বেশি সময় নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হলে ভালো হতো; অন্যান্য দেশে এই জন্য আরও বেশি সময় দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু আপনার নিশ্চয় মনে থাকবে যে ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া চলার সময়েই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের জন্য সরকারের ওপরে চাপ দিচ্ছিল। এমন অপপ্রচারও ছিল যে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংস্কারের অজুহাতে’ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়। ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে অনেক রাজনৈতিক দল সংস্কারের কাঠামো এবং এই বিষয়ে এজেন্ডা তৈরির চেয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে অস্থিরতা দেখিয়েছে, কমিশনকে সেটা বিবেচনায় নিতে হয়েছে। সংস্কারের ব্যাপারে কোনো কোনো দলের প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল। তারপরেও এটা ঠিক যে রাষ্ট্র সংস্কারের একটা সুস্পষ্ট এজেন্ডা তৈরি হয়েছে।