আগামী অর্থবছরে বার্ষিক করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলেও যাঁরা করমুক্ত আয়সীমার কিছুটা ওপরে থাকবেন, তাঁদের করের চাপ কমবে না; বরং কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ, আগামী অর্থবছরে ৫ শতাংশের করহার তুলে দেওয়া হতে পারে। এর পরিবর্তে যাঁদের বার্ষিক আয় পৌনে চার লাখ টাকার বেশি তাঁদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা পরবর্তী প্রথম ৩ লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লাখ টাকার জন্য ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের জন্য ৩০ শতাংশ হারে করারোপ করা হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে এতে করমুক্ত আয়সীমার একটু ওপরে থাকা করদাতাদের কর বাড়বে।
বর্তমান নিয়মে, সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হয়। কোনো করদাতার যদি সাড়ে চার লাখ টাকা বার্ষিক আয় হয়, তাহলে ওই করদাতাকে বর্তমান নিয়মে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হচ্ছে। আগামী বাজেটে যদি সর্বনিম্ন করহার ৫ শতাংশ তুলে দেওয়া হয় এবং কোনো করদাতার বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা হয় তাহলে ওই করদাতার ৭৫ হাজার টাকার ওপর কর বসবে। আর সেই আয়ের ওপর যদি ১০ শতাংশ হারে কর বসে তাহলে সাড়ে সাত হাজার টাকা কর দিতে হবে। এতে আগের চেয়ে তাঁর করের পরিমাণ আড়াই হাজার টাকা বাড়তে পারে।
এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ প্রথম আলোকে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে সাধারণ করদাতাদের কথা চিন্তা করে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো যৌক্তিক। এতে কিছু করদাতা হয়তো করের আওতার বাইরে চলে আসবেন; কিন্তু যাঁরা করজালের মধ্যে থাকবেন, তাঁদের একদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ সামলাতে হবে, অন্যদিকে কর বাবদ খরচও বাড়বে। আয়ের ওপর করহার যদি বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে করের বোঝা বেড়ে যাবে। তাই সরকারের উচিত, মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাধারণ মানুষ ও করদাতাদের স্বস্তি দেওয়া।