ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে শিক্ষাবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনের পরিচিত মুখ সোনম ওয়াংচুকের অনশন ষোড়শ দিনে গড়িয়েছে। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। এদিকে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন বিরোধী জোটের প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে দেখা করে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানাবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে যন্তর মন্তর থেকে সংসদ ভবনের উদ্দেশে যৌথ মিছিল করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে সোনম ওয়াংচুক অনশনে যোগ দেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নির্ধারণ এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।
দীর্ঘ অনশনের ফলে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকেরা নিবিড় নজর রাখছেন। নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা যন্তর মন্তরে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তারা অনশন ভেঙে আন্দোলনকে অন্যভাবে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানাবেন বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, পরীক্ষা পরিচালনায় জবাবদিহি এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার প্রশ্ন সংসদের ভেতরেও জোরালোভাবে তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে বিরোধী শিবির।
সোনম ওয়াংচুক শুধু একজন শিক্ষাবিদ নন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও হিমালয় অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছেন। লাদাখের পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিয়ে তার আন্দোলন আন্তর্জাতিক মহলেও পরিচিত। বাস্তবমুখী শিক্ষা, বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবন এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পক্ষে তার অবস্থান তাকে দেশের অন্যতম আলোচিত জনবুদ্ধিজীবীতে পরিণত করেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, সোনম ওয়াংচুকের মতো একজন পরিচিত সামাজিক কর্মীর আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের অধিবেশন শুরুর সঙ্গে এই আন্দোলনের সময়গত মিল বিরোধী রাজনীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। বিরোধী দলগুলো শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থান, জবাবদিহি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার বিষয়গুলো সামনে এনে সরকারকে চাপে রাখতে চাইছে।
অন্যদিকে সরকার আগেই জানিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকেরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে গেলেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেছেন, তিনি এখনো নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তবে বিরোধী জোটের নেতাদের অনুরোধের পর তার সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, সেদিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলন এখন শুধু একজন ব্যক্তির অনশন নয়, বরং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের অধিকারের প্রশ্নেও একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।