আসিফ নজরুল: ধীরে ধীরে আশাবাদী হয়েছি। এর আগে বহু আন্দোলন হয়েছে, একটা হতাশা চলে এসেছিল। সরকারের পতন হবেই—এটা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করি, যখন আর্মিরা বলল যে তারা জনগণের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবে না। ১৭ জুলাই আমরা শিক্ষকেরা শাহবাগ থানা থেকে দুজন ছাত্রকে ছাড়িয়ে আনি। এ দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের সমাবেশও হয়, ১৯ জুলাই শাহবাগে অভিভাবকদের সমাবেশ হয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো সমাবেশ বা মিছিলে থাকতাম। ২ আগস্টের দ্রোহযাত্রায় ছিল সর্বস্তরের মানুষ। এসব সমাবেশে এমন মানুষদের দেখতে পাই, যাঁরা আগে কখনো শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামেননি। আর জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে এসে মনে হলো, অনেকের মধ্যেই এই বোধ সঞ্চালিত হয়েছে, যত মানুষ মারা যাক, যা কিছু হোক, রাজপথ ছেড়ে যাওয়া সম্ভব না।

আরেকটা বিষয় খুব রিমার্কেবল লেগেছিল। আমি অতীতে অনেক আন্দোলনে ছিলাম। কিন্তু খুব ডিস্টিংক্টলি বলতে পারি, এই অভ্যুত্থানের শেষ দিকে এসে লক্ষ করলাম, আমার মধ্যে কোনো মৃত্যুভয় কাজ করছে না। অসংখ্য তরুণ মারা যাচ্ছে, ছোট ছোট বাচ্চারা মাকে চিঠি লিখে রাজপথে নেমে যাচ্ছে, একটা সাধারণ মেয়ে রিকশায় দাঁড়িয়ে স্লোগান দিচ্ছে। মনে হচ্ছিল, আমার ব্যক্তিগত মৃত্যু কোনো ঘটনাই না। সম্ভবত এ জন্য ৩ আগস্ট শহীদ মিনারের সমাবেশে বলেছিলাম, মৃত্যু পর্যন্ত আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব।

তরুণ বয়সে মুক্তিযোদ্ধাদের গল্প শুনে খুব অদ্ভুত লাগত। মানুষ মরে যেতে পারে জেনেও কীভাবে যুদ্ধে যায়! এই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বুঝেছি এই ফিলিংসটা কত সত্যি এবং এটা আমার নিজের ক্ষেত্রেও ঘটেছে। এটা একটা বিস্ময়কর আবিষ্কার।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews