কবি, গল্পকার, অনুবাদকসহ বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কবি মোল্লা সালেহর প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘হুব্বাঞ্জলি’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) বিকালে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিএমটিটিআই) হলরুমে জমকালো আয়োজনের মধ্যে দিয়ে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

শ্রীরামপুর মোজাদ্দেদিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক নাহিদা আক্তারের উপস্থাপনায় এবং বিএমটিটিআই-এর কর্মকর্তা পরিষদের সম্পাদক মুহাম্মদ আরিফুর রহমানের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমটিটিআই-এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মাহমুদুল হক।

কবির বক্তব্যে সাহিত্য চর্চায় আসার পেছনে তার শিক্ষক বাবা ও তার জীবনের সংগ্রামের কথা স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

এর আগে ‘হুব্বাঞ্জলি’ নিয়ে বিশ্লেষণমূলক আলোচনায় অংশ নেন কবি অন্তত পৃথ্বীরাজ, কবি জেসমিন অরিন ও কবি মামুন সুলতান।

কবি মামুন সুলতান বলেন, ‘হুব্বাঞ্জলি কবি মোল্লা সালেহর প্রথম গ্রন্থ হলেও কবির কাব্যিক জীবন বহুদিনের। স্কুল জীবন থেকে তিনি লেখালেখি করছেন। তাই তার লেখা শিল্পগুণে পরিপূর্ণ। এ গ্রন্থে তিনি নানান বিষয়ে কবিতা লিখেছেন। বিষয় বৈচিত্র্যে বহুমাত্রিকতা আছে। প্রকাশভঙ্গিতে আছে চমকপ্রদ অনুষঙ্গ, আছে ভাববিষয়ের অপূর্ব মিথস্ক্রিয়া। কাব্যগ্রন্থের নামকরণেও আছে ব্যতিক্রমী শব্দচয়ন। কবিতার আঙ্গিনায় টিকে থাকার জন্য চরম ধৈর্য ও অধ্যবসায়ী হতে হবে। বাংলা সাহিত্যে এই পথচলাকে সাধুবাদ জানানো দরকার।’

কবি অন্তত পৃথ্বীরাজ বলেন, ‘মোল্লা সালেহর ‘হুব্বাঞ্জলি’ রূপকের আড়লে জীবনের প্রতিচ্ছবি। কবিতাগুলো পড়া শুরু করতেই অপার মুগ্ধতায় আমি হারিয়ে যেতে থাকলাম এক ভিন্ন জগতে। যে জগৎ মূর্ত ও বিমূর্ত ভাবনার। কবি মোল্লা সালেহের কবিতাগুলোর পাড়তে পাড়তে রয়েছে শিল্পের কারুকার্য। একবিংশ শতকের দ্বিতীয় দশকে লেখা কবিতাগুলোর উৎসস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল এবং সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার উলিপুর ও আড়ংগাইল গ্রাম। যেখানে কবির জন্ম ও শৈশব এবং শিক্ষাজীবনের স্বপ্নীল ও সোনালি দিনগুলো কেটেছে। ‘হুব্বাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। ‘সাহিত্যদেশ’ প্রকাশনী থেকে বইটি প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটির অনিন্দ্য-সুন্দর ও পরিপাটি প্রচ্ছদটি এঁকেছেন সোহানুর রহমান অনন্ত। মূল্য মাত্র দুইশ টাকা।’

প্রধান অতিথি বক্তব্যে প্রফেসর মাহমুদুল হক বলেন, ‘কবি মোল্লা সালেহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের আরবি বিভাগের ছাত্র। আমিও একই বিভাগের ছাত্র। পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সাহিত্য হল আরবি সাহিত্য। কবির কাব্যে যে আরবির প্রভাব বিদ্যমান কাব্যগ্রন্থের নামকরণের দিকে তাকালে তা সহজেই অনুমেয়।’

অনুষ্ঠানের সভাপতি মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ‘কবি মোল্লা সালেহর ‘হুব্বাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের অধিকংশ কবিতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলে লেখা। আমি নিজেও ছাত্র অবস্থায় দীর্ঘদিন ওই হলে ছিলাম। বইয়ের কবিতাগুলো ছাত্র অবস্থায় লেখা। আমরা বিশ্বাস করি তিনি হারিয়ে যাননি। এখনো তার লেখা অব্যাহত আছে। আশা করি বর্তমান সময়ে লেখা কবিতা নিয়ে অচিরেই তিনি আমাদেরকে নতুন কাব্যগ্রন্থ উপহার দিবেন।’

অতিথিরা কবি মোল্লা সালেহকে তার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় সফলতা অর্জনের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং সাহিত্য চর্চায় আরো বেশি অবদানের আশা করেন। এসময় বিএমটিটিআই-এর অন্য প্রশিক্ষকবৃন্দ ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews