১৯৮৬ এবং ২০২২ আসরে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল কানাডার। চলতি আসরের প্রথম ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে ড্র করে জয়ের অপেক্ষাটা বেড়েছিল। গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অবশেষে কানাডার হাতে ধরা দিল ঐতিহাসিক সেই মুহূর্ত, কাঙ্ক্ষিত জয়। জোনাথন ডেভিডের হ্যাটট্রিক গোলের ম্যাচে কাতারের বিপক্ষে ৬-০ গোলে রেকর্ড জয় পেয়েছে স্বাগতিক কানাডা।
ভ্যাঙ্কুভারে প্রথম জয়ের আশায় নেমেছিল দুদলই। দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ খেলা কাতার নিজেদের প্রথম আসরে কোনো জয় পায়নি, চলতি আসরের প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করেছিল তারা। প্রথম জয়ের খোঁজে গ্রুপপর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে নেমে কানাডার কাছে পাত্তাই পেল না তারা।
ম্যাচের ১৬ মিনিটে লিড পায় স্বাগতিকরা। জোনাথন ডেভিডের জোরাল শট ঠেকালেও হাতে রাখতে পারেননি কাতার গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদা। ফিরতি বল পেয়ে জালে পাঠান কাইল লারিন।
কাতারকে চাপে রেখে ২৯ মিনিটে লিড বাড়িয়ে নেয় কানাডা। জোনাথন ডেভিড গোল করেন। ৩৩ মিনিটে দশজনের দলে পরিণত হয় কাতার। কানাডা মিডফিল্ডার তাজন বুকাননকে বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফাউল করেন কাতারের হুমাম আল-আমিন। এই ফাউলের কারণে প্রথমে পেনাল্টি দেন রেফারি। পরে ভিএআর যাচাইয়ের পর পেনাল্টির বদলে ফ্রি-কিক পায় কানাডা। কিন্তু লাল কার্ড দেখেন হুমাম।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জোনাথন নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। পরে ৩-০তে এগিয়ে বিরতিতে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর নেমে ম্যাচের ৫৩ মিনিটে ৯ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। কানাডা মিডফিল্ডার ইসমায়েল কনেকে গুরুতর ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন আসিম মাদিবো। তাতে প্রথম এশিয়ান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে একই ম্যাচে দুটি লাল কার্ড দেখল কাতার।
মাদিবোর আঘাতে পা ভেঙে মাঠ ছাড়েন ইসমায়েল। ধারণা করা হচ্ছে, এখানেই বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ তার। বদলি হিসেবে নামের নাথান সালিবা। ৬৪ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে কাতার জালে বল পাঠান তিনি। গোলের পর পা ভেঙে মাঠ ছাড়া ইসমায়েল কনের জার্সি দেখিয়ে উদযাপন করেন সালিবা।
৭৫ মিনিটে নিজেদের জালে বল জড়ায় কাতার। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে জালে পাঠান মোহাম্মদ আল-মানাই। ৫-০তে পিছিয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। এরপর যোগকরা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে কাতার জালে বল পাঠিয়ে চলতি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে হ্যাটট্রিক করেন জোনাথন ডেভিড। আসরের প্রথম হ্যাটট্রিকটি করেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি, আলজেরিয়ার বিপক্ষে।
৬-০ গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কানাডা। তাতে কনকাকাফ অঞ্চলের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ গোল দেয়ার রেকর্ড গড়ল কানাডা।