গত জানুয়ারিতে পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলায় আমাদের গ্রামের বুথ লেভেল অফিসার আমাকে ফোন করে পাসপোর্টের অনুলিপি চেয়েছিলেন। ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধনী’ বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন প্রক্রিয়ার আওতায় তখন ভোটার তালিকার ব্যাপক নিরীক্ষা চলছিল।
সেই অনুযায়ী আমি নথিপত্র জমা দিই। দুই সপ্তাহ পর আমাদের নাম থাকা নিয়ে খণ্ডঘোষ বিডিও অফিসে একটি শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আমি ম্যানচেস্টার থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে সেখানে যুক্ত হই।
শুনানিতে নিজের অবস্থান নিয়ে আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমি আমার নিজের পাসপোর্ট, বাবার পাসপোর্ট ও স্বাধীনতার আগের জমির মালিকানার প্রমাণপত্র জমা দিয়েছিলাম। রাষ্ট্রের এর চেয়ে বেশি আর কীই–বা চাওয়ার থাকতে পারে?
কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, চাওয়ার অনেক কিছুই বাকি ছিল। বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিয়ে উচ্চশিক্ষার কাজে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে যখন প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন হঠাৎ আবিষ্কার করলাম যে আমাদের পরিবারের চারজনের নামই ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গেছে। বাবা, আমার দুই ভাই–বোন ও আমার নাম সেই তালিকা থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে।