তবে সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয় এই অনিশ্চিত শ্রমজীবী মানুষেরই। কখনো আগুনে পুড়ে, কখনো দেয়ালধসে, কখনোবা মেট্রোরেলের বিয়ারিং মাথায় পড়ে।
সমাজবিজ্ঞানীরা এ ধরনের মৃত্যুকে সচরাচর স্ট্রাকচারাল মার্ডার বা কাঠামোগত হত্যা বলে অভিহিত করেন। কিন্তু এই কাঠামোগত হত্যা যখন শহরে খুব নিয়মিত ঘটে, তখন এটা ব্যানালিটি অব মার্ডারে পরিণত হয়।
ঢাকা শহরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যে পরিমাণ অপমৃত্যু হয়েছে, তাতে এই শহরকে এখন জীবিতদের আবাসস্থল বলা মুশকিল।
জার্মান তাত্ত্বিক বিয়ুং-চুল হাংয়ের ভাষায় বলতে হয়, এটা একটা ‘আনডেড সিটি’, একটু ভিন্নভাবে বললে ‘অ-জীবিত শহর’।
আমার পরিচিত কয়জন ইংরেজি জম্বি শব্দটার জুতসই বাংলা করেছিলেন: ‘জিন্দা লাশ’। আমার কাছে এই ঢাকা শহর এখন একটা জিন্দা-লাশের শহর। জিন্দা এই অর্থে যে ‘এখন পর্যন্ত’ আপনি বেঁচে আছেন। আর বাকি অংশ হতে যেকোনো সময়ের ব্যাপার।
এত এত অপমৃত্যু দেখে একটা সময় মনে হতো, নগর বা শহরের বিষয়টাই হয়তো আমাদের জনপদের মানুষের জন্য নয়।
মানে, এই আরোপিত শহর-নগরের বিষয়টা আমাদের দ্বারা হয় না, হবেও না। কিন্তু যখন পৃথিবীর আধুনিক নগরের ইতিহাস দেখি, তখন দেখি যে আমাদের চেয়েও একসময়ে কয়েক গুণ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী আমাদের চেয়েও চমৎকারভাবে নগর গড়ে তুলেছে।
সেই সব নগরে খুন, ছিনতাই, চুরিসহ নানান অপরাধ হয়; কিন্তু খোদ নগরের নাগরিক কাঠামো প্রসূত যে অবকাঠামো, তার জন্য কত মানুষের জীবন যায়?