জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে ছাঁটাই করে আলোচনায় আসা এবং কর্মীদের ‘বানর’ ও ‘বুদ্ধিহীন ডলফিন’ বলে অপমান করার অভিযোগ ওঠা সাবেক সিইও বিশাল গার্গের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তারই প্রতিষ্ঠান বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স। কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণ পুনরায় নিজের হাতে নেওয়ার জন্য গার্গ নানা ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। খবর ফোর্বসের।
মামলার নথি অনুযায়ী, গার্গের বিরুদ্ধে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ‘শেয়ারহোল্ডারদের একটি জোট’ গড়ে তোলার চেষ্টা এবং প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে ‘বিভ্রান্তিকর বিবৃতি’ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড ফেডারেল সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে বলেও দাবি করেছে কোম্পানিটি।
করোনা মহামারির সময়ে দুই মিনিটেরও কম সময়ের একটি জুম কলে প্রায় ৯০০ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার ঘটনায় গার্গ ব্যাপকভাবে আলোচিত হন। কর্মীদের ‘বানর’ এবং ‘বুদ্ধিহীন ডলফিন’ বলে অপমান করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গত ৩ আগস্ট বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্সের পরিচালনা পর্ষদ গার্গকে সিইও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দেয়। পর্ষদের অন্য সব সদস্য তার অপসারণের পক্ষে ভোট দিলেও গার্গ নিজে সেই ভোটে অংশ নেননি।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২২ সাল থেকে কোম্পানিটি ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি নিট লোকসান করেছে। একই সময়ে গার্গের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের মূল্য ৯০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।
কোম্পানির অভিযোগ, ৩ আগস্ট পদচ্যুত হওয়ার পর গার্গ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিশোধমূলক অভিযান’ শুরু করেন। এর অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট তিনি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তাদের সবাইকে পদত্যাগের আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, ‘উদ্বিগ্ন শেয়ারহোল্ডারদের’ পক্ষ থেকে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে গার্গ ওই শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং প্রচলিত গণমাধ্যম ব্যবহার করে তিনি কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডারদের ‘৫২ শতাংশ’ তার পক্ষে রয়েছে বলে দাবি করেন।
তবে কোম্পানিটির অভিযোগ, এই দাবির সমর্থনে প্রয়োজনীয় কোনো প্রক্সি বিবৃতি তিনি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেননি।
কোনো গুরুত্বপূর্ণ সভায় সরাসরি উপস্থিত হতে না পারা শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানানো এবং তাদের হয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ তৈরির জন্য প্রক্সি বিবৃতি ব্যবহার করা হয়।
মামলায় বেটার হোম অ্যান্ড ফাইন্যান্স আদালতের কাছে গার্গের পক্ষে দেওয়া শেয়ারহোল্ডারদের সব সমর্থন বাতিলের আবেদন জানিয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৩০ দিনের জন্য গার্গকে নতুন করে শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন চাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও অনুরোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।