বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তা আরো বেড়ে ৩ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, অর্থাৎ দুই মাসে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৪০ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা।
নির্বাচন উপলক্ষ্যে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ও বেড়েছে। এখন ব্যাংক ও এটিএম বুথ থেকে নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ বাড়ছে। ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায়, বিশেষ করে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙা হয়ে উঠেছে।
ব্যাংকের বাইরে হটাৎ টাকা বেড়ে যাওয়াকে স্বাভাবিক মনে করছেন ব্যাংকাররা। তারা বলেন, অনেক দিন পর দেশে একটি প্রকৃত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই কেন্দ্রিক নগদ টাকার চাহিদা বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেও অবশ্য ব্যাংক থেকে মানুষের হাতে নগদ টাকা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছিল। কারণ, তখন কয়েকটি ব্যাংক থেকে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে টাকা বের করে নেওয়া হয়েছিল। সরকার বদলের পর মূল্যস্ফীতির লাগাম টানতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে এবং এরপর ব্যাংকগুলোতে টাকা ফিরতে শুরু করে। তবে পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগে আবার ব্যাংকের বাইরে টাকা বাড়ে। কোনো কোনো মাসে অবশ্য কমেও।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে নগদ টাকা কমেছে। জুলাইয়ে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা, যা কমে আগস্টে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা, সেপ্টেম্বরে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা ও অক্টোবরে ২ লাখ ৭০ হাজার ৪৪৯ কোটি টাকায় নামে।
এদিকে গত ১১ জানুয়ারি থেকে নগদ অর্থ জমা বা উত্তোলনে তদারকি জোরদার করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। সংস্থাটির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো একটি হিসাবে কোনো নির্দিষ্ট দিনে এক বা একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা বা তদূর্ধ্ব অর্থ কিংবা সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা জমা বা উত্তোলনের ক্ষেত্রে (অনলাইন, এটিএমসহ যে কোনো ধরনের নগদ লেনদেন) বিএফআইইউর কাছে নগদ লেনদেনের প্রতিবেদন (সিটিআর) জমা দিতে হবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এই নগদ লেনদেন প্রতিবেদন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জমা দিতে হবে। প্রতি সপ্তাহের রিপোর্ট পরবর্তী সপ্তাহের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।