মস্কো, ১৮ মার্চ – জ্বালানি সমৃদ্ধ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বৃদ্ধি করলে ক্রেমলিনের ওপর ব্যাপক অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে এবং তারা ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে বাধ্য হবে। পশ্চিমা নীতিনির্ধারক ও কৌশলবিদরা দীর্ঘকাল ধরে এমনটাই দাবি করে আসছিলেন। তবে ইউক্রেনে রুশ ট্যাংক প্রবেশের চার বছর পরও দেশটির পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হয়েছে।

তা সত্ত্বেও রুশ অর্থনীতি বেশ ভালোভাবেই টিকে আছে এবং তাদের যুদ্ধও চলমান রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশিয়া এখনো চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ জ্বালানি ভোক্তা দেশগুলোর কাছে তাদের জ্বালানি পণ্য বিক্রি করতে সক্ষম হচ্ছে। অন্যদিকে মাত্র পনেরো দিনের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ইরান যুদ্ধের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে তীব্রভাবে অনুভূত হতে শুরু করেছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ সম্পন্ন হয়।

একটি বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে ইরান শুধু হরমুজ প্রণালিই বন্ধ করেনি, উপসাগরীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এর ফলে আরব দেশগুলো থেকে তেল উৎপাদন ও জ্বালানি রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর জের ধরে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং বাংলাদেশ থেকে শুরু করে পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেছে।

তারা বিভিন্ন দেশকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সমুদ্রে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত রুশ তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। এটি আমেরিকার ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দুর্বলতারই একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, নীতির এই পরিবর্তন প্রমাণ করে যে, ইরান যুদ্ধ ট্রাম্প প্রশাসনকে ততটা লাভবান করেনি যতটা এটি রাশিয়াকে সুবিধা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির নিউ লাইনস ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণমূলক উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের সিনিয়র ডিরেক্টর এবং প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ইউজিন চাউসোভস্কি বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সুবিধাভোগী দেশ হলো রাশিয়া। একদিকে যেমন তেল রপ্তানি থেকে তাদের আয় বেড়েছে, তেমনি অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও নিষেধাজ্ঞার চাপও কিছুটা শিথিল হয়েছে। চাউসোভস্কি সতর্ক করে বলেন, তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি রাশিয়ার অর্থনীতি এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তার যুদ্ধে ব্যাপক সাহায্য করেছে যা হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।

মস্কোর এই সুবিধাজনক অবস্থান শেষ পর্যন্ত চলমান মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সময়কাল এবং ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, যদিও এক মাসের এই শিথিলতা রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার খুব বড় কোনো বিচ্যুতি নয়, তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করছে। তাই ভূরাজনৈতিক প্রভাব এখন মস্কোর অনুকূলেই রয়েছে। বুখারেস্ট ভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক একাতেরিনা মাতোই বলেন, রাশিয়ার মতো একটি দেশ শুধুমাত্র পেট্রোলিয়াম পণ্যের জন্য এক মাসের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে বছরের পর বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়ে যায় না।

তিনি জানান, এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মূল লক্ষ্য তেলের দাম স্থিতিশীল করা। তবে এর ভূরাজনৈতিক বার্তাটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ এবং তা হলো, যুক্তরাষ্ট্র একাই বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বোঝা বহন করতে সক্ষম নয়। মাতোই জানান, আমেরিকান ও ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের মাধ্যমে ইরানি নেতৃত্বকে ধ্বংস করার চেষ্টা সত্ত্বেও প্রণালিটি বন্ধ থাকা একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার কাছ থেকে সাময়িকভাবে জ্বালানি নেওয়ার অনুমতি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র মূলত সমস্যার গুরুত্ব স্বীকার করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর চাপ কমানোর চেষ্টা করেছে। মাতোইয়ের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এটাও প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে জ্বালানি সংকটে থাকা ইউরোপীয়দের চেয়ে ভারতের মতো তার এশীয় অংশীদারদের বেশি অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। তবে পশ্চিমা মিত্রদের থেকে ট্রাম্পের এই ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা ইউরোপীয়দের নজর এড়ায়নি। কারণ নিষেধাজ্ঞা শিথিলের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনীয় এবং পুরো ইউরোপ জুড়ে তাদের অংশীদারদের দারুণভাবে হতাশ করেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই একটি ছাড় রাশিয়াকে যুদ্ধের জন্য প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার এনে দিতে পারে যা শান্তি প্রতিষ্ঠায় কোনোভাবেই সহায়ক নয়। ম্যাক্রোঁও যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে তার গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি ব্রিটিশ ও জার্মান নেতারাও ট্রাম্পের এই নিষেধাজ্ঞার পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তারা বলেছেন, রাশিয়ার ওপর থেকে চাপ কমানোর জন্য ইরান যুদ্ধ কোনো অজুহাত হতে পারে পরিচয়। রুশ শিক্ষাবিদ এবং পুতিনের সাবেক উপদেষ্টা সের্গেই মার্কভ জানান, অনেক দেশই রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করাকে একটি দুর্বল কৌশল হিসেবে দেখবে। তারা নিজেদের মধ্যে প্রশ্ন তুলবে যে, যুক্তরাষ্ট্র যখন এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে তেমন গুরুত্ব দিচ্ছে না, তখন অন্যরা কেন সেগুলো মেনে চলবে। গত সপ্তাহে মার্কিন জ্বালানি বিভাগ ঘোষণা করেছে, তারা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়বে। বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া প্রতিরোধের লক্ষ্যে গঠিত বৈশ্বিক ফোরাম ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির ৫০ বছরের ইতিহাসে এটিই মজুতকৃত তেলের সবচেয়ে বড় নির্গমন। এই নজিরবিহীন নির্গমনের পরিমাণ আইইএ এর মোট জরুরি তেল মজুদের এক দশমাংশ। এটি আমেরিকার ভূরাজনৈতিক সংকটের আরেকটি বড় লক্ষণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদিও মস্কোকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ট্রাম্প প্রশাসনের সিদ্ধান্তের রাশিয়ার অর্থনীতিতে সীমিত প্রভাব পড়বে, তবে এর মনস্তাত্ত্বিক সুফল ক্রেমলিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমারা দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়াকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে করে রাখতে চেয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের রুশ রাজনীতি বিশেষজ্ঞ ওলেগ ইগনাটোভ বলেন, রাশিয়ার তেল কোম্পানি এবং রাশিয়ার বাজেট নিশ্চিতভাবেই এর মাধ্যমে লাভবান হচ্ছে। রাশিয়া আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সম্পদের একটি নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী হিসেবে তার সুনাম পুনরুদ্ধারেরও আপ্রাণ চেষ্টা করছে। ইগনাটোভ আরও বলেন, সবকিছু নির্ভর করছে প্রণালিটি কতদিন বন্ধ থাকবে এবং এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তার ওপর। এখানে সময়ই মূল বিষয় এবং এটি যতো দীর্ঘায়িত হবে রাশিয়া তত বেশি লাভবান হবে। মার্কভের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার তেলের বৈশ্বিক চাহিদা বাড়াবে এবং মস্কোকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অর্থায়ন করতে ব্যাপকভাবে সাহায্য করবে। মার্কভ বলেন, তেলের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা এবং ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তে উৎসাহিত হয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী রাশিয়া কোনো ছাড় ছাড়াই তাদের তেল বিক্রি করবে।

ফলে দেশটি আরও ধনী হবে। এই রুশ বিশ্লেষক আরও যোগ করেন, ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক চাপের কারণে চীন ও ভারতের মতো বড় জ্বালানি গ্রাহকরাও হয়তো অনুভব করবে যে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর আর নির্ভর করতে পারছে পরিচয় না। তারা মস্কোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরের অর্থনৈতিক দিকে ঝুঁকতে পারে। কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত আসলে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে তৈরি হওয়া বিভাজনের আরেকটি উদাহরণ। বিশেষ করে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনকে কীভাবে সমর্থন করা হবে, সেই প্রশ্নে মতভেদ এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশ্লেষক ইগনাটোভ বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান ইউরোপীয় দেশগুলোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাদের ধারণা, পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রায় সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে।

তাই যুদ্ধ শেষ করার জন্য নতুন করে নিষেধাজ্ঞা বাড়ানোর চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোনোই এখন বেশি কার্যকর হতে পারে। ইগনাটোভ বলেন, নিষেধাজ্ঞা রাশিয়ার আচরণ পরিবর্তন করতে পারে বলে ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করে না। তিনি আরও বলেন, এশীয় দেশগুলো চাইলে যেকোনো উপায়ে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল কেনার পথ খুঁজে নেবে। মস্কোর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আগে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার অনুমতি দিয়ে একটি বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছিল। ইরান যুদ্ধের বিতর্কিত গতিপ্রকৃতির কথা উল্লেখ করে ইগনাটোভ বলেন, ওয়াশিংটন বাজারকে আশ্বস্ত করতে চায় এবং তারা বিশ্বাস করে যে তেলের দাম অল্প সময়ের জন্যই কেবল বেশি থাকবে।

প্রসঙ্গত, রাশিয়াও আপাতত ঠিক এমনটাই মনে করছে। ইরান যুদ্ধ ইউক্রেনের সামরিক সরবরাহের ওপরও উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে দূরপাল্লার ও স্বল্প পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পর্যন্ত কিয়েভকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপীয় দেশগুলোর মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংঘাত বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় আমেরিকান শিক্ষাবিদ জন মিয়ারশেইমার বলেন, আমরা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র পুড়িয়ে ফেলছি, যার জন্য ইউক্রেনীয়রা প্রতিনিয়ত কাকুতি মিনতি করছে। তিনি তেহরানের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে ইরানি হামলা প্রতিহত করতে আমেরিকান বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন। ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণে ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ফেলছে।

দেশটি স্বল্প সময়ে এত বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উৎপাদন করতে পারবে না। এদিকে সমস্ত লক্ষণই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তৃতীয় কোনো রাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না করলে উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত শুরু হবে। মার্কভ বলেন, ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে তাদের প্রয়োজনীয় অস্ত্র সরবরাহ করার মতো সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আর থাকবে না। এর ফলে ইরান যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে। মার্কভ আরও বলেন, যেহেতু ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তাই এই যুদ্ধ রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চাহিদাও বহুগুণ বাড়াবে। তিনি আরও যোগ করেন, মস্কোর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্ভবত বিশ্বের সেরা।

এই অর্থে ইরানের যুদ্ধ রাশিয়ার সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সকেও আরও শক্তিশালী করে তুলবে বলে জানান এই বিশ্লেষক। মার্কভের মতে, রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবান সম্পদ লক্ষ্যবস্তু করতে ইরানকে সাহায্য করার জন্য গোপন গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান করে থাকতে পারে। সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশিত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র মস্কোর বিরুদ্ধে কিয়েভের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে এখন দ্বিতীয়বার ভাবতে পারে। তিনি আরও বলেন, এর ফলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের দর কষাকষির ক্ষমতাও সম্ভবত অনেক হ্রাস পাবে। ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুতে যখন রুশ বাহিনী কিয়েভ দখল করতে ব্যর্থ হয় এবং খারকিভের মতো শহরগুলো থেকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে পিছু হটে, তখন অনেক পশ্চিমা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে পুতিনের অধীনে ক্রেমলিনের অবস্থা বেশ খারাপ হচ্ছে। তবে পশ্চিমা পূর্বাভাস সত্ত্বেও রাশিয়া তার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছে এবং তারপর থেকে পূর্ব ইউক্রেনে নিজেদের অগ্রগতি লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ফলে মস্কোতে কোনো শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখন একটি সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য বলেই মনে হচ্ছে।

মার্কভ প্রশ্ন তোলেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অধীনে থাকা তেহরানে যদি মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলা শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে না পারে, তাহলে পশ্চিমা জোট মস্কোতে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা কীভাবে কল্পনা করতে পারে। তিনি বলেন, এটা খুবই স্পষ্ট যে ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের প্রচেষ্টা বর্তমানে সফল হচ্ছে না। তাহলে রাশিয়ায় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কথা কল্পনা করা আরও অনেক বেশি কঠিন হবে। কারণ শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইউরেশিয়া জুড়ে দেশটির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক ও সামরিক উপস্থিতি রয়েছে।

এ এম/ ১৮ মার্চ ২০২৬



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews