ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালামকে সভাপতি এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লিমিটেডের পরিচালক (ক্রীড়া ) মো. মোস্তাকুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে আত্মপ্রকাশ ঘটলো নতুন ক্রীড়া সংগঠন বাংলাদেশ স্পোর্টস ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসসিএ)। গতকাল বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষিত হলেও এর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পরবর্তীতে ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি সালাম ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক তারকা ফুটবলার সৈয়দ রুম্মান বিন ওয়ালি সাব্বির, রিয়াজ উদ্দিন, আমের খান, ক্রীড়া সংগঠক ফজলুর রহমান বাবুল, সাজেদ এ এ আদেল, মাহবুবুর রহমান শাহিন, সারোয়ার হোসেন ও নুরুজ্জামানসহ ঢাকার ৬১টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা। মূলত দেশের ক্লাবভিত্তিক খেলাধুলাকে পুনরুজ্জীবিত করতেই আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ ঘটলো বিএসসিএ’র। নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক মোস্তাকুর রহমান বলেন,‘বাংলাদেশের খেলাধুলার সার্বিক মান উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী ক্লাব কাঠামো অপরিহার্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দেশের ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলো আর্থিক সংকট, অব্যবস্থাপনা এবং অবহেলার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ না ঘটলে জাতীয় পর্যায়ে খেলাধুলার কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তাই আমাদের এই উদ্যোগ।’ ক্রিকেট, ফুটবল ও হকির প্রায় ৬১টি ক্লাব এই সংগঠনে যোগ দিয়েছে বলেও জানান মোস্তাকুর রহমান। সামনে আরও ক্লাব বিএসসিএ’র ছাতায় আশ্রয় নেবে বলেও জানান তিনি। সভাপতি আব্দুস সালাম বলেন, ‘একসময় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, আবাহনী লিমিটেড ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন-এর মতো ক্লাবগুলোর হাত ধরেই দেশের ফুটবল প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ক্লাবগুলোকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘ক্লাবগুলোর আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা, নতুন খেলোয়াড় তৈরি এবং ক্লাব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।’ পাশাপাশি বিএসসিএ’র কর্তারা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ক্লাবগুলোর সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান চান। অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়ামগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। জাতীয় স্টেডিয়াম এবং কমলাপুর স্টেডিয়াম ক্লাব ফুটবলের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানান তারা। তাদের মতে, ঢাকার ফুটবলকে আবার দর্শকের কাছে ফিরিয়ে আনতে হলে এসব ভেন্যুতে নিয়মিত লিগ আয়োজন জরুরি।
বর্তমানে ক্লাবগুলোকে ঢাকার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন জেলায় খেলতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে। এই বাস্তবতায় ক্লাবগুলো টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা খুব শিগগিরই তাদের দাবিসমূহ ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের কাছে উপস্থাপন করবে। তবে তারা এটিকে কোনো বিরোধিতা নয়, বরং উন্নয়নের অংশীদারিত্ব হিসেবে দেখতে চান। অনুষ্ঠানে সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার, ক্রীড়া ফেডারেশন এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত সহযোগিতায় দেশের ক্লাবভিত্তিক খেলাধুলা ফের তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।