গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এসেছিলেন। তার এই আগমন কোনো সরকারি সভা- সেমিনারে অংশগ্রহণের জন্য ছিল না। তিনি নিজ থেকে এসেছিলেন সাংবাদিকদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে। নিজেই বললেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরীকে ফোন করে দেখা-সাক্ষাৎ ও গল্প করার জন্য এসেছি। দল ক্ষমতায় আসার আগে প্রায় প্রতিদিনই প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে দেখা হতো, কথা হতো, আড্ডা হতো। দল ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কাজের ব্যস্ততার কারণে বিগত তিন মাস সাংবাদিকদের সাথে একটা গ্যাপ হয়ে গিয়েছিল, তাই আজ সবার সাথে দেখা ও গল্প করার জন্য এসেছি। কাদের গণি চৌধুরীর অমন্ত্রণে সেই গল্প ও আড্ডায় আমিও উপস্থিত ছিলাম। আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক এরফানুল হক নাহিদ, প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মোমিন হোসেন, জাহিদুল ইসলাম রনি, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মোহসিন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ প্রায় বিশজনের মতো সাংবাদিক। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে প্রাণবন্ত আড্ডা, স্মৃতি রোমন্থন ও কথার মাঝে উঠে আসে বর্তমান গণমাধ্যমের হালহকিকতের বিষয়টি। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাসহ (বাসস) বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকা যে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসর সাংবাদিকদের আধিপত্য রয়ে গেছে এবং জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকরা সেসব মাধ্যমে কোনঠাসা কিংবা তাদের চাকরি দেয়া হয় না ইত্যাদি চিত্র তুলে ধরেন বিএফউজে মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী। সেসব মাধ্যমে শুধু ফ্যাসিবাদের দোসররাই নয়, একটি রাজনৈতিক ইসলামী দলের অনুসারিরা যে এখন বিএনপি সেজে ব্যাপকহারে চাকরি পাওয়াসহ প্রভাব বিস্তার করছে এবং নতুন পত্রিকা প্রকাশিত হলেও জাতীয়তাবাদী আদর্শের কোনো সাংবাদিককে চাকরি দেয় না, এই অভিযোগও তুলে ধরেন তিনি। অন্যন্যা বক্তার বক্তব্যেও একই চিত্র উঠে আসে। তাদের বক্তব্যের সার কথা হচ্ছে, বিএনপি এখন ক্ষমতায় থাকলেও বিগত দেড় যুগ ধরে যেসব জাতীয়তাবাদী আদর্শের সাংবাদিক লড়াই-সংগ্রাম করেছে, বেকার হয়ে গিয়েছিল, তাদের অনেকের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সুযোগ হচ্ছে না, সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। পুরো মিডিয়া এখন ফ্যাসিবাদের দোসর এবং ওই ইসলামী রাজনৈতিক দলের অনুসারিদের দখলে চলে গেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে, আগামীতে বিএনপিকে এর মাশুল দিতে হবে। বিএনপির এদিকে নজর দেয়ার পাশাপাশি জাতীয়তাবাদী আদর্শের নতুন গণমাধ্যম তৈরি এবং হাসিনার সময়ে বিলুপ্ত করে দেয়া দৈনিক বাংলা, বাংলাদেশ টাইমস, সাপ্তাহিক বিচিত্রাসহ টাইমস-বাংলা মিডিয়ার যেসব পত্রিকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল, সেগুলো চালু করার প্রস্তাব ও পরামর্শ তারা দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনোযোগ সহকারে সাংবাদিকদের কথা শোনেন এবং বলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলবেন। তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে জাতীয় প্রেসক্লাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার সাথে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। উপস্থিত সাংবাদিকরা যখন জাতীয়তাবাদী আদর্শের গণমাধ্যমের গভীর সংকট নিয়ে কথা বলছিলেন, তখন আমার মনে হচ্ছিল, বিদ্যমান সকল গণমাধ্যম থেকে কোনো ধরনের ট্যাগ লাগানো ছাড়াই দৈনিক ইনকিলাব স্বমহিমায় একটি প্রকৃত গণমাধ্যম হিসেবে আলাদা অবস্থানে চার দশক ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ইনকিলাব না কোনো দলের, না কোনো গোষ্ঠীর, না কোনো দলের লেজুড়বৃত্তি করে। এটি দেশ ও জনগণের হয়েই রয়েছে।


দুই.
আমার কাছে এটাও মনে হয়েছে, অসংখ্য পত্রপত্রিকা, টেলিভিশন চ্যানেলের মধ্যে ইনকিলাবই একমাত্র পত্রিকা, যা কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান এবং তার বা কোনো গোষ্ঠীস্বার্থ রক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হয়নি। কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি একটি দর্শনের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে যেভাবে পত্রিকা ভূমিকা রাখে, ইনকিলাব সেই বৈশিষ্ট্য নিয়েই দাঁড়িয়ে আছে। এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলামান ও সারাবিশ্বের মুসলমানদের ইসলামী মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্ববোধ অক্ষুণ্ন রাখা ও তার পক্ষে দায়িত্ব পালনের নীতি ও দর্শনই এর মূল ভিত্তি। এই ভিত্তির উপর দাঁড়িয়েই সাদাকে সাদা, কালোকে কালো, অন্যায়কে অন্যায়, ন্যায়কে ন্যায়, ভালোকে ভালো, মন্দকে মন্দ বলার দায়িত্ব পালন করছে। ইনকিলাবের এই নীতি ও দর্শনের স্বপ্নদ্রষ্টা প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, দার্শনিক, সংস্কারক, অনন্য দূরদর্শী চিন্তার মনীষি আলহাজ মাওলানা এম. এ. মান্নান (রহ.)। চার দশক আগে যে সময়টাতে তিনি এমন একটি পত্রিকা প্রকাশের চিন্তা করেছিলেন, তা শুধু চার দশক পর নয়, অনাগত ভবিষ্যতের জন্যও প্রাসঙ্গিক হয়ে রয়েছে। শত বছর আগের চিন্তার অনেক পত্রিকা শত বছর পর এসে বন্ধ হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। মাওলানা এম. এ. মান্নান (রহ.) শতবর্ষী চিন্তা করেননি, যে চিন্তা ও দর্শন কেয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে, সেই চিন্তা নিয়েই ইনকিলাব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর এই চিন্তা ও দর্শন কোনো ব্যক্তি কেন্দ্রিক ছিল না, ছিল সার্বজনীন ও বিশ্বজনীন। আমার মনে আছে, আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগে ইনকিলাবের কোনো একটি সভায় তিনি বলেছিলেন, ইনকিলাব কেয়ামত পর্যন্ত টিকে থাকবে। তিনি আজ নেই। কিন্তু তাঁর দর্শন ও চিন্তা, যা দেশ ও বিশ্বের জন্য কল্যাণকর, তা নিয়েই ইনকিলাব এগিয়ে চলছে। এজন্য যে কথাটি বলে আসছি, ইনকিলাব আজ যা বলে, অন্যরা তা আগামীকাল বলে, ইনকিলাব আজ যা ভাবে, অন্যরা তা আগামীকাল ভাবে। ইনকিলাবের এই দর্শন ও চিন্তা এগিয়ে নেয়ার দায়িত্বটি মাওলানা এম. এ. মান্নান (রহ.) দিয়েছিলেন, তাঁর বড় সন্তান জনাব এ এম এম বাহাউদ্দীনের কাঁধে। যিনি বিশ্বজনীন দর্শন চিন্তা করেছেন, সেই চিন্তা যিনি ধারণ ও বহন করতে পারবেন, তাঁকেই দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। জনাব এ এম এম বাহাউদ্দীন সেই কাজটি যে সূচারুভাবে করেছেন, করছেন এবং সমসাময়িক ও প্রাসঙ্গিকতার আলোকে এগিয়ে নিচ্ছেন, যা দেশের শত শত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক মিডিয়ার মধ্যে ইনকিলাবের স্বাতন্ত্র অবস্থান থেকেই বোঝা যায়। তাঁকে বলা হয় চব্বিশ ঘন্টার সম্পাদক, যাঁর ধ্যান-জ্ঞানে শুধু ইনকিলাব। ইনকিলাবেই তাঁর বসবাস। এর মাধ্যমেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে তিনি নিবেদিত। এ থেকে তাঁর ব্যক্তিগত কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। ইনকিলাবের মতো এমন পত্রিকা আর দ্বিতীয়টি নেই। ইনকিলাবের সাবেক ডেপুটি এডিটর জনাব ইউসুফ শরীফ প্রায়ই বলতেন, ইনকিলাব এমন একটি পত্রিকা, যা অন্যকোনো পত্রিকার সাথে তুলনীয় নয়। এমন পত্রিকা দেশে তো বটেই বিশ্বে দ্বিতীয়টি খুঁজে পাওয়া যাবে না। ইনকিলাবের যারা পাঠক, তারা যদি একটু গভীরভাবে চিন্তা ও বুঝতে চেষ্টা করেন, তাহলে তাঁর কথার মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারবেন।


তিন.
নিখাদ ও খাঁটি দেশপ্রেমের পত্রিকা কয়টি আছে? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথম নামটিই আসবে ইনকিলাব। আমরা দেখেছি এবং দেখছি, বর্তমানে যেসব দৈনিক ও টিভি চ্যানেল রয়েছে, সেগুলো প্রতিষ্ঠাই হয়েছে কোনো না কোনো দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি কিংবা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা-বাণিজ্য সুরক্ষা দেয়ার জন্য। তাদের স্বার্থের বাইরে গেলেই সরকার খারাপ, তাদের পক্ষে থাকলে সরকার ভালো। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেড় দশকের শাসনামলে আমরা পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর এই চরিত্রই দেখেছি। দেখেছি, কীভাবে হাসিনার পদলেহন করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে। এই দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল ইনকিলাব। হাসিনা যখন প্রকৃত সাংবাদিকতার পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তখন সেই ভয়াবহ ও সংকুচিত পরিস্থিতিতেও ইনকিলাব সমস্ত চাটুকারিতার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সত্য কথা বলেছে। বলতে গিয়ে হাসিনার রোষানলে পড়েছে। ভয়-ভীতি দেখিয়েছে। সরকারি বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দিয়েছে। এমন বিরূপ ও কঠিন পরিস্থিতিতেই ইনকিলাব সম্পাদক ফ্যাসিবাদের কাছে মাথা নোয়াননি। আপোস করেননি। চাটুকার মিডিয়ার সাথে তাল মেলাননি। ইনকিলাবের সম্পাদকের কোনো রাজনৈতিক দল নেই কিংবা তিনি কোনো দলের নেতাও নন। তাঁর কোনো কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানও নেই যে, ইনকিলাব তার স্বার্থ রক্ষার রক্ষাকবচ হবে। অন্য সকল পত্রিকা ও গণমাধ্যমের সাথে ইনকিলাবের বেসিক পার্থক্য এখানেই। আমরা যদি সেগুলোর দিকে তাকাই, তাহলে দেখব, প্রত্যেকটি কোনো না কোনো শিল্পগোষ্ঠী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং কোনো না কোনো গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি করে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সাংবাদিকদের আলোচনায় এই বাস্তব চিত্রই উঠে এসেছে। এজন্য একটি কমন প্রশ্ন আসে, ওই পত্রিকা কোন গ্রুপ প্রকাশ করেছে? কোন মন্ত্রী বা এমপি জড়িত? কিংবা নতুন কোনো পত্রিকা এলে জিজ্ঞেস করে কোন শিল্পগোষ্ঠী অর্থায়ন করছে? এসব প্রশ্ন থেকে সহজেই বোঝা যায়, ঐসব পত্রিকার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি? ইনকিলাবের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ নেই। কারণ, ইনকিলাব প্রকাশ করা হয়েছে, ফিলোসফি ও আইডলজি থেকে, যা দেশ ও বিশ্বের কল্যাণে কাজ করে, যা মানুষকে ভাবায়, ভাবতে শেখায়। ইনকিলাব ইসলাম ও মুসলমানদের খেদমতে নিবেদিত। এ কারণে, অনেকে ইনকিলাবকে কোনো একটি রাজনৈতিক ইসলামী দলের বলে মনে করে। অবশ্য যারা ইনকিলাবের নিয়মিত পাঠক এবং চিন্তাশীল, তারা জানেন, ইনকিলাব কোনো ভ্রান্ত মতবাদের ইসলামকে সমর্থন করে না। প্রকৃত ইসলাম এবং তার মূল্যবোধ ও দর্শন ধারণ করে। এক্ষেত্রে সে আপোসহীন। বরং ইসলামের ভ্রান্ত ও বাতিল মতবাদকে বর্জন করে রাসূল (সা.) নির্দেশিত ও প্রদর্শিত ইসলামকেই ধারণ ও সম্প্রসারণ করে। দেশ ও জনগণের কল্যাণ চিন্তার বাইরে ইনকিলাবের আর কোনো চিন্তা নেই। ইনকিলাবকে শুধু একটি পত্রিকা হিসেবে গণ্য করলে ভুল হবে। এটি দেশের সঠিক পথরেখা নির্মাণের দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। এজন্য, ইনকিলাবকে বলা হয়, লিডার্স নিউজ পেপার। ইনকিলাবের চারদশক পথচলা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। কত যে হামলা-মামলা এর সাংবাদিক গ্রেফতার ও জেল খেটেছে, তার ইয়ত্তা নেই। বারবার বন্ধও করে দেয়া হয়েছে। ইনকিলাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে সম্পাদক জনাব এ এম এম বাহাউদ্দীনের বিরুদ্ধে যত মামলা দেয়া হয়েছে, তার আগে এত মামলা অন্যকোনো সম্পাদককে মোকাবেলা করতে হয়নি। ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে শুধু বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে ইনকিলাবের প্রকাশনা বন্ধসহ তাঁর পরিবারের উপর হামলা হয়েছে। তারপরও তিনি তাঁর লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। বরং ফ্যাসিস্ট মাথা নুইয়ে ইনকিলাব খুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। বাস্তবতা হচ্ছে, সাময়িকভাবে ইনকিলাবের পথ রোধ করা যায়, বন্ধ করে দেয়া যায় না।


চার.
ইনকিলাবের দর্শনের সাথে তৃতীয় প্রজন্মের সংযুক্তি ঘটেছে। আগেই বলেছি, ইনকিলাবের দর্শন চিরন্তন ও সার্বজনীন। দর্শন বদলায় না, যুগ বদলায়। এই দর্শন ধারণ করেই যুগ পরিক্রমায় তৃতীয় প্রজন্মের পথযাত্রা শুরু হয়েছে। এই পথযাত্রার যাত্রী ইনকিলাবের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা এম এ মান্নানের (রহ.) দুই সুযোগ্য নাতনী এবং ইনকিলাব সম্পাদক জনাব এ এম এম বাহাউদ্দীনের কন্যা ইনকিলাবের নির্বাহী পরিচালক ফাহিমা বাহাউদ্দীন শাম্মা এবং নির্বাহী সম্পাদক নাজিফা বাহাউদ্দীন। বলার অপেক্ষা রাখে না, ইনকিলাবের দর্শনের সাথে তাদের মেধা ও প্রজ্ঞা ইনকিলাবকে ঋদ্ধ করেছে। নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, তারা ইনকিলাবকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে এগিয়ে নেবেন। ইনকিলাব তার দর্শনে সময়কে ধারণ করে, সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকে। মানুষের চিন্তা সম্প্রাসারিত করে চাহিদার যোগান দেয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইনকিলাব আমাদের চিরায়ত মূল্যবোধকে ধারণ করে সংবাদপত্র জগতে যে আধুনিক চিন্তা যুক্ত করেছে, তা সে সময়ের এবং পরবর্তীতে প্রকাশিত পত্রিকাকে অনুকরণ ও অনুসরণ করতে বাধ্য করেছে। প্রথাগত ধারণার বাইরে গিয়ে পত্রিকার কলেবর বৃদ্ধি করে চিন্তাক্ষেত্রের বিস্তার ঘটিয়েছে। দেশের শিল্প-সাহিত্য, ক্রিড়া-সংস্কৃতি, শিক্ষা-স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা, তারুণ্যের উজ্জীবন, সামাজিক-পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ তৈরি, ইসলামের সঠিক প্রসারসহ হেন কোনো বিষয় নেই, যা ইনকিলাব যুক্ত করে সংবাদপত্র জগতে আলোড়ন তোলেনি। পত্রিকাকে কেন্দ্র করে যে পাঠক ফোরাম গঠন করা যায়, এ চিন্তা কেবল ইনকিলাবই করেছিল। এ চিন্তা শুধু ইনকিলাবের পাঠকই সৃষ্টি করেনি, অন্য পত্রিকার পাঠক বৃদ্ধিতেও সহায়তা করেছে। যুগের চাহিদা মেটাতে ইনকিলাব এখন বেতার মাধ্যম তথা ডিজিটাল মাধ্যমেও বিস্তৃত। ইনকিলাবের যে দর্শন ও জনকল্যাণমূলক চিন্তা, তা স্থায়ী এবং চলমান। এই চিন্তা ও দর্শন অবিনশ্বর। এজন্যই, ইনকিলাব সকল গণমাধ্যম থেকে আলাদা।
[email protected]



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews