সারা দেশে আগামী ২০শে এপ্রিল সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে “হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন। দেশজুড়ে ১০ই মে ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন নির্ধারিত কেন্দ্রসমূহে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকাপ্রদান করা হবে। ইতোপূর্বে ১২ই থেকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৩০শে এপ্রিল পর্যন্ত চলমান থাকবে। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় ৫ই এপ্রিল থেকে ক্যাম্পেইন শুরু হয়ে ২১শে এপ্রিল পর্যন্ত চলবে কর্মসূচি।

রোববার ঢাকার সিভিল সার্জন অফিসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে “হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬” শীর্ষক এই বিশেষ কর্মসূচি চলছে বলে জানানো হয় অনুষ্ঠানে। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সরকার ফারহানা কবীর, মেডিকেল অফিসার ডা. নূরেন মুবাশশিরা প্রভা, মেডিকেল অফিসার ডা. ফাবলিনা নওশিন, মেডিকেল অফিসার ডা. নন্দিতা দাস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. মাকসুদুল আমিন ।

সংবাদ সম্মেলনে সিভিল সার্জন জানান, শিশুদের হাম ও রুবেলা রোগ থেকে সুরক্ষা প্রদান, জটিলতা ও মৃত্যু ঝুঁকি হ্রাস, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা এবং টিকাদান কভারেজ বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই ক্যাম্পেইন পরিচালিত হচ্ছে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন নির্ধারিত কেন্দ্রসমূহে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টিকা প্রদান করা হবে (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত)। টিকাদান কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে-ও ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন চলমান থাকবে।

ঢাকা জেলার এমআর টিকার জন্য মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ হয়েছে ৫ লাখ ৭ হাজার জন ও ইতোমধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে ৪০১ জন (রেজিষ্ট্রেশন চলমান)। ঢাকা জেলার ইতোমধ্যে শুরু হওয়া নবাবগঞ্জ উপজেলার মোট লক্ষ্যমাত্রা ৪১ হাজার ৭২০ জন।

ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য ও কর্মসূচি: এই ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ মাস বয়স থেকে ৫৯ মাস পর্যন্ত সকল শিশুকে ১ ডোজ এমআর টিকা প্রদান করা হবে। এমআর ভ্যাকসিন. প্রথম ডোজে হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা তৈরি হয়; দ্বিতীয় ডোজের পর হামের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রায় ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এই টিকা নিরাপদ, মানসম্পন্ন, কার্যকর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত।

টিকা গ্রহণের দিন শিশুর জ্বর, বমিভাব, অ্যালার্জি, অথবা অসুস্থতা থাকলে টিকা প্রদান করা যাবে না। যে শিশু গত ২৮ দিনের মধ্যে এমআর টিকা গ্রহণ করেছে, তাকে এ ২৮ দিন শেষ হওযার আগে টিকা প্রদান করা হবে না। অসুস্থ এবং বাদ পড়া শিশুরা পরবর্তী সময়ে পার্শ্ববর্তী টিকাদান কেন্দ্র থেকে ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে টিকা নিতে পারবে বলে জানান সিভিল সার্জন। টিকা প্রদানের লক্ষ্যে জেলার আওতায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রচার চালানো হচ্ছে।

অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আপনার শিশুদের https://vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে জন্মনিবন্ধন (অনলাইন) সনদের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করুন এবং সময়মতো আপনার শিশুকে নির্ধারিত সময়ে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসুন। যে সকল শিশু অসুস্থতা, অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে নির্ধারিত দিনে টিকা গ্রহণ করতে পারবে না, তাদের পরবর্তীতে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র থেকে টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে। স্বাস্থ্যকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, মিডিয়াকর্মী এবং সুশীল সমাজের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করে সিভিল সার্জন বলেন, যাতে উদ্দীষ্ট ১টি শিশুও টিকার আওতার বাইরে না থাকে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews