ক্রিকেট বিশ্বে সুপার পাওয়ার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রথম ইন্টারন্যাশনাল ওয়ানডে সিরিজ জিতে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। দুর্দান্ত দাপুটে দৃঢ়তায় খেলে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ডিএলএস পদ্ধতিতে চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বিস্ময়কর হলেও অসম্ভব সম্ভবের খেলাই ক্রিকেট। সেটাই ফের প্রমাণ হলো বৃহস্পতিবার ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। ফুটবল মহাযজ্ঞ ‘বিশ্বকাপ’ শুরুর দিনটি ইতিহাস হয়ে থাকল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। গোটা বিশ্বের মানুষ যখন মেসি, রোনালদো, নেইমার, এমবাপ্পে বা হ্যারি কেনদের পায়ের জাদু দেখার অধির অপেক্ষায়, তখন লাল-সবুজের পতাকাবাহী মিরাজ বাহিনী দেশের মানুষকে নিজস্ব অর্জন ও অহংকারের উচ্ছ্বাসে আপ্লুত করেছে। ধন্যবাদ, অভিনন্দন তাঁদের। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এই প্রথম ওয়ানডে সিরিজ জয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের মুকুটে একটা উজ্জ্বল পালক সংযোজন করল। এর আগে ২০২১ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪-১ ব্যবধানে টি-২০ সিরিজও জিতেছিল ঘরের মাঠে। ঘরের মাটিতে টানা চতুর্থ সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এর আগে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছিল টানা। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এতদিন শুধু ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেই ওয়ানডে সিরিজ জেতা বাকি ছিল বাংলাদেশের। এখন সে তালিকায় বাকি থাকল একমাত্র ক্রিকেটের জন্মভূমি ইংল্যান্ড। আগামীকাল রবিবার শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে থাকবে অসিদের বাংলা ধোলাইর সম্ভাবনাও। সর্বশক্তি নিয়োগ করে, সমন্বিত প্রচেষ্টা, টিম-স্পিরিট এবং ক্রিকেটের সব রণকৌশল প্রয়োগ করে, টিম বাংলাদেশ সেই সুবর্ণ সুযোগটা সত্যি করুক- প্রত্যাশা গোটা জাতির। বিশ্বকাপ ফুটবল দামামার মধ্যেই আমরা আরও একবার বিজয়ী বাঘের গর্জন এবং দুর্দান্ত শিকার বধের গর্বিত চেহারাটা দেখতে চাই লাল-সবুজের অর্জনে। ক্রিকেট জাতির অহংকারের ক্ষেত্র। এর থলিতে নতুন নুতন উজ্জ্বলতর পদক জমা হোক- প্রতিনিয়ত কামনা করে জাতি। সে প্রত্যাশা পূরণ চাই আগামীকালও।