অনেক দিক থেকে দেখলে, এটা আসলে তাঁর দোষ নয়।
আপনাকে যদি দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্রয় দেওয়া হয় এবং প্রতিনিয়ত বলা হতে থাকে যে আপনি এখনো আগের মতোই সব করতে পারেন, তাহলে আপনিও সেটিই বিশ্বাস করবেন। চারপাশের সব প্রমাণ যখন খুব স্পষ্টভাবে দেখায় যে আপনার সেই চেনা সামর্থ্য আর নেই, তখনো আপনি খেলা চালিয়ে যেতে চাইবেন। এটাই তো স্বাভাবিক মানুষের মনস্তত্ত্ব।
যদি এমন একজন কোচ আপনাকে নিয়মিত মূল একাদশে রাখেন, যিনি সবার চোখে পড়া কঠিন বাস্তবতাটি স্রেফ উপেক্ষা করে যান, তবে আপনার মনে হতেই পারে যে জাদুকরি সেই সামর্থ্য এখনো আপনার ভেতরে অক্ষুণ্ন আছে।
যখন আপনি এমন একটি স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেন, যেখানে হাজারো মানুষ এসেছে বিশেষভাবে কেবল আপনাকে দেখতে; আর গ্যালারিতে কোনো ভক্তের হাতে লেখা থাকে—‘বিশ্বকাপ থাক বা না থাক, আপনি সব সময়ই আমার সর্বকালের সেরা’—তখন নিজেকে অপরিহার্য মনে হওয়াই সংগত।
আসলে বিদায় বলা বা ছেড়ে দেওয়া বড় কঠিন। বিশেষ করে যখন চোখের সামনে প্রতিনিয়ত নতুন কোনো মাইলফলক উঁকি দিতে থাকে। ক্যারিয়ারে এক হাজার গোলের এক সম্মোহনী লক্ষ্য সামনে ঝুলছে। খেলার জন্য সামনে রয়েছে আরেকটি বড় টুর্নামেন্ট। এর ওপর যখন আপনার সমসাময়িকেরা ও পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বীরাও এখনো মাঠ মাতিয়ে যাচ্ছেন, তখন থামার সিদ্ধান্ত নেওয়া আরও বেশি জটিল হয়ে পড়ে।
কিন্তু রূঢ় বাস্তবতা হলো, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আর সেটি করতে পারছেন না।
অন্তত পর্তুগালের মতো বিশ্বসেরা দলের হয়ে যে মানের পারফরম্যান্স প্রয়োজন, তার ধারেকাছেও তিনি এখন যেতে পারছেন না। অথচ কাগজে-কলমে পর্তুগালকে এই বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল ধরা হয়। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে রোনালদো মাঠে কার্যত কিছুই করতে পারেননি।