আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা শনিবার তাদের রেকর্ড গড়া চন্দ্রাভিযান নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। মহাকাশের বিশাল শূন্যতায় পৃথিবীকে একটি নিঃসঙ্গ ‘জীবনতরীর’ মতো দেখার পর তারা বিশ্ববাসীকে ঐক্যের আহ্বান জানান।
হিউস্টন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, মিশনের বিশাল সাফল্যের পর নাসার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নভোচারীরা এ কথা বলেন।
দীর্ঘ ৫০ বছরেরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো নভোচারী দল চাঁদকে প্রদক্ষিণ করল। তারা ইতিহাসের যেকোনো মানুষের চেয়ে মহাকাশের অনেক গভীরে ভ্রমণ করেছেন। সফল অভিযান শেষে গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলে তাদের বহনকারী যানটি নিরাপদে সাগরে অবতরণ করে।
অনুষ্ঠানে মিশন কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও জেরেমি হ্যানসেনের পাশে দাঁড়িয়ে নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ বিশ্ববাসীকে মানবিক ভ্রাতৃত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানান।
কোচ বলেন, ‘মহাকাশে কেবল পৃথিবীই আমার নজর কাড়েনি, বরং এর চারপাশের নিকষ কালো অন্ধকার আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। পুরো মহাবিশ্বে পৃথিবী ছিল এক শান্ত ও স্থির জীবনতরীর মতো।’
তিনি আরো বলেন, ‘অভিযান থেকে নতুন একটি জিনিস আমি শিখলাম। আর তা হলো- হে পৃথিবী, তোমরা সবাই আসলে একটি পরিবারের সদস্য।’
নভোচারী হ্যানসেন ‘আর্টেমিস’ ভক্তদের উদ্দেশে বলেন, এই চারজনের দলের মধ্যে যেন তারা নিজেদেরই খুঁজে নেন। এই অভিযানে বেশ কিছু মাইলফলক তৈরি হয়েছে। গ্লোভার ছিলেন প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ, কোচ প্রথম নারী এবং কানাডিয়ান হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদ প্রদক্ষিণ করেছেন।
হ্যানসেন বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে চাই, আপনারা যখন এখানে আমাদের দিকে তাকাচ্ছেন, তখন আসলে আমাদের দেখছেন না। আমরা মূলত আপনাদেরই প্রতিচ্ছবি বা আয়না।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখানে যা দেখছেন তা যদি আপনাদের ভালো লাগে, তবে আরেকটু গভীরভাবে লক্ষ্য করুন। এই অর্জন আসলে আপনাদেরই।’
মহাকাশের গভীরে ভ্রমণ এবং চাঁদকে প্রদক্ষিণের সময় আর্টেমিস নভোচারীরা হাজার হাজার ছবি তুলেছেন, যা এক অসাধারণ ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তারা মহাকাশ থেকে সূর্যগ্রহণ এবং চাঁদের বুকে উল্কাপাতের বিরল দৃশ্যও প্রত্যক্ষ করেছেন।
নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান বলেন, ‘আর্টেমিস-২ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এটি এমন এক মুহূর্ত, যখন আমরা সবাই আবারো চাঁদকে দেখলাম এবং শৈশবের স্বপ্নগুলো বাস্তবে পরিণত হলো।’
ওই চার নভোচারীর উদ্দেশে আইজ্যাকম্যান বলেন, ‘আপনারা বিশ্ববাসীকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাতে এবং বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন; এই অর্জন কেউ কোনোদিন ভুলবে না।’
চাঁদে মানুষের টেকসই উপস্থিতি বজায় রাখতে নাসার ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির মধ্যে এটিই হলো প্রথম মানববাহী মিশন। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো চাঁদে একটি স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি করা, যা পরবর্তীতে মঙ্গল গ্রহসহ আরো গভীর মহাকাশ গবেষণায় ব্যবহৃত হবে।
নাসা আশা করছে, ২০২৮ সালের মধ্যেই তারা চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষের পদচিহ্ন এঁকে দিতে সক্ষম হবে।
সূত্র: বাসস