বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠান, যদিও এর সিংহভাগ আসে মাত্র কয়েকটি দেশ থেকে। যেমন সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইতালি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ওমান, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর উল্লেখযোগ্য। তবে উন্নত দেশের তুলনায় মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীরা বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। ওই সব দেশের প্রবাসীরা ব্যক্তিজীবনে কোনো প্রকার ভোগ বিলাসিতা না করে শুধু নিজের খরচ বাদ দিয়ে পুরো টাকাটাই পরিবারের জন্য দেশে পাঠিয়ে দেন।
সৌদি আরব এখনো প্রবাসী আয়ের প্রধান উৎস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে তার প্রায় ৬৫ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলোতে প্রচুর বাংলাদেশি শ্রমিক কর্মরত। শুধু সৌদি আরবেই বাংলাদেশির সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। গোটা মধ্যপ্রাচ্য থেকে যে ৬৫ শতাংশ রেমিট্যান্স আসে তার ৪৮ ভাগই আসে সৌদি আরব থেকে।
এ কাঁচা সোনা রেমিট্যান্স আহরণের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি সম্ভাবনাময় দেশ বাহরাইন। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে বাহরাইন অন্যতম ছোট রাষ্ট্র। লোকসংখ্যা মাত্র ১৬ লাখ। তন্মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিক। যাঁদের মধ্যে আবার ভারতীয়দের সংখ্যাই বেশি। এর পরই বাংলাদেশের অবস্থান। কোনো সুনির্দিষ্ট স্ট্যাটিসটিকস না থাকলেও জানা গেছে ২ লাখেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক বাহরাইনে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তন্মধ্যে নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিক-শ্রেণির সংখ্যাই বেশি। বাহরাইনে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য কাজের যথেষ্ট সুযোগসুবিধা রয়েছে, যা দেশের অনেকের কাছেই অজানা। মধ্যপ্রাচ্যে চাকরির বাজার বলতে তাঁরা শুধু সৌদি আরব, দুবাই এবং কুয়েতকেই বেশি বোঝেন। সরকারি পর্যায়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে বাহরাইনে আরও জনশক্তি রপ্তানির সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে বলে আমি মনে করি।
ব্যাংকে চাকরি করার সুবাদে রেমিট্যান্স বিজনেসকে আরও সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকবার বাহরাইন ভ্রমণের সুযোগ ঘটে আমার। আর তখনই তাদের অর্থনীতি খুব কাছে থেকে দেখি। মরুভূমির দেশ হলেও সেখানে গাছপালার অভাব নেই, কৃত্রিমভাবে ট্রান্সপ্লান্টেশন করা হয়েছে। অনেক খরচের বিনিময়ে বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষ করে ভারতের কেরালা থেকে উন্নতমানের মাটি এনে মরুভূমির ওপর বালুর স্তরকে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আর এ কৃত্রিম মাটির ওপর গড়ে তোলা হয়েছে ঝকঝকে সুন্দর সাজানো শহর। দুই পাশে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে কৃত্রিম উপায়ে রোপণ করা সবুজ গাছপালা ও হরেকরকম বাহারি বাগান বিশেষ করে শত শত খেজুর গাছ দেখলে বোঝার উপায় নেই, এটি মরুভূমির দেশ।
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনামূলকভাবে বাহরাইনিদের অয়েল ফিল্ড কম। তবে বাহরাইন তার তেল শোধনাগারের জন্য বিখ্যাত। সেখানে রয়েছে বিশাল বিশাল তেল শোধনাগার। মূলত সৌদি আরব থেকে কম দামে অপরিশোধিত তেল ক্রয় করে এবং তা পরিশোধিত করে বহির্বিশ্বে বিক্রি করে। এসব রিফাইনারি ইন্ডাস্ট্রি মোটা মোটা পাইপের মাধ্যমে সৌদি আরব থেকে প্রতিদিন ক্রুড অয়েল এনে তা রিফাইন করে বিক্রি করে। এ খাত থেকে বাহরাইন প্রচুর অর্থ উপার্জন করে, যা সাধারণত সরকারি কোষাগারে জমা হয় এবং পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যবহৃত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে বাহরাইনিদের পোয়াবারো। আর তখন প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রের পাশাপাশি জনশক্তি আমদানিও বাড়িয়ে দেয়। ও দেশে দালানকোঠা, রাস্তাঘাট নির্মাণ থেকে আরম্ভ করে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ তারা প্রবাসী শ্রমিক দ্বারা করিয়ে নেয় এবং নিজেরা বেশির ভাগ সময় আমোদফুর্তি নিয়েই ব্যস্ত থাকে।
বাহরাইনের প্রায় সব কর্মক্ষেত্রেই ভারতীয় নাগরিকরা একচেটিয়া বাজার দখল করে আছেন। তাঁদের বেশির ভাগ লোকই যেকোনো বিষয়ে দক্ষ এবং শিক্ষিত। এমনকি স্বল্পশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত যাঁরা, তারাও ভালো ইংরেজি বলতে পারেন। ফলে চাকরির ক্ষেত্রেও তাঁরা সাধারণত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। আর এসব সুপারভাইজারের মাধ্যমেই বাহরাইনিরা অন্যান্য দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাজ বুঝে নেয়।
বাহরাইনে যাঁরা আমির এবং শেখ তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই অর্থকড়ি ও মর্যাদার দিক থেকে সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। অনেক শেখ বা সম্পদশালী ব্যক্তি আছেন, যাঁদের গ্রামের বাড়িতে শত শত বিঘা জমি পতিত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যাঁদের চাষবাসের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁরা সাধারণত এসব পতিত জমির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে মাসিক ভিত্তিতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থের বিপরীতে তা লিজ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করে থাকেন। জমি লিজ নেওয়ার সময় যেসব প্রবাসী বাংলাদেশি ওই গার্ডেন বা কৃষি ফার্মের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব বুঝে নেন তাঁকে বিভিন্ন জাতের সবজি উৎপাদনে সহযোগিতা করার জন্য তাঁর পছন্দমতো আরও বাংলাদেশি নিয়োগ দেওয়া হয়।
বাহরাইনে ছোটবড় ও মাঝারি বিভিন্ন সাইজের অনেক গার্ডেন বা কৃষি ফার্ম রয়েছে, যা প্রবাসী বাংলাদেশিরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেখভাল করে থাকেন। দেখা গেছে একটি মাঝারি সাইজের কৃষি ফার্মে ৩০-৪০ জন বাংলাদেশি একত্রে মিলেমিশে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। বাহরাইনে সারা বছরই বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ হয়ে থাকে বিধায় তাঁদের যেন নিঃশ্বাস ফেলারও সময় নেই। শুধু কাজ আর কাজ। একটাই ভাবনা-দেশে ফেলে আসা পরিবারকে কীভাবে দুটো পয়সা পাঠাবে। জমির মালিককে প্রতি মাসের নির্ধারিত তারিখে অর্থ প্রদানের পরও বর্গাচাষি হিসেবে তাঁদের হাতে ভালো উপার্জন থাকে। ফলে একজন সাধারণ লোক তাঁর নিজ খরচ মিটিয়েও মাসে কমপক্ষে ৩০-৩৫ হাজার টাকা দেশে পরিবারপরিজনের কাছে পাঠাতে পারেন। আবার অনেকে আছেন এ কষ্টের উপার্জন থেকে প্রতি মাসে কিছু কিছু সঞ্চয় করে যখন একটা বড় ধরনের অ্যামাউন্ট হয় তখন পাশাপাশি একাধিক কৃষি ফার্ম লিজ নিয়ে থাকেন। এ মরুদেশ বাহরাইন আজ অনেকটাই সবুজে পরিণত হয়েছে। এ সবুজায়নের পেছনে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবদান উল্লেখযোগ্য। কাজেই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, প্রতিটি বৃক্ষের মূলে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশি শ্রমিকদের ঘামের গন্ধ।
বাহরাইনে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বেশির ভাগই এসেছেন কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ঢাকার দোহার অঞ্চল থেকে। কনস্ট্রাকশনের কাজ ছাড়াও তাঁরা বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে জানা গেছে, বর্তমানে অনেক বাংলাদেশি বাহরাইনের বিভিন্ন গার্ডেন বা কৃষি ফার্মে কাজ করেন। এমনই একটি গার্ডেন যার নাম ‘বারবার গার্ডেন’। এটি ঘুরে দেখার সময় যে অভিজ্ঞতা অর্জন করি তা সহৃদয় পাঠকদের জন্য এখানে তুলে ধরছি।
‘বারবার গার্ডেনটি বাহরাইনের ক্যাপিটাল সিটি মানামা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে কান্ট্রি সাইডে অবস্থিত। তবে ও দেশের গ্রাম আমাদের দেশের গ্রামের মতো নয়। প্রতিটি গ্রামেই রয়েছে সব ধরনের আধুনিক সুযোগসুবিধা। এ ছাড়া প্রায় বাড়িতেই রয়েছে তাদের নিজস্ব ট্রান্সপোর্ট। এখানে আরেকটি বিষয় ব্যাখ্যা না করলেই নয়, তা হচ্ছে, আমাদের দেশে গার্ডেন বলতে আমরা সাধারণত ফুলের বাগানকেই বুঝে থাকি। কিন্তু বাহরাইনের কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার কিছুসংখ্যক বাড়িঘর ওই এলাকার নাম অনুসারে গার্ডেন হিসেবে অভিহিত হয়ে থাকে। যেমন বারবার নামক এলাকার ৫০টি বাড়ি নিয়ে ‘বারবার গার্ডেন’ নামকরণ করা হয়েছে। একইভাবে নূর নামক একটি এলাকার ৪০টি বাড়ি নিয়ে ‘নূর গার্ডেন’ নামকরণ করা হয়েছে।
এ গার্ডেনগুলোয় যেসব বাড়িঘর রয়েছে তাতে বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দা অর্থাৎ বাহরাইনিরা বসবাস করেন। প্রায় প্রতিটি বাড়িসংলগ্ন যেসব পতিত জমি পড়ে থাকে বাড়ির মালিক তাতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের লক্ষ্যে প্রবাসী শ্রমিকদের কাছে লিজ দিয়ে থাকেন। বাংলাদেশি ওয়ার্কার যাঁদের কৃষিকাজে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাঁরাই সাধারণত এ ধরনের কাজে নিয়োজিত থেকে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে বিভিন্ন ধরনের উন্নতমানের সবজি যেমন ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, আলু, মুলা, করলা, ঝিঙ্গা, শসা, টম্যাটো ইত্যাদি উৎপাদন করে থাকেন। আমাদের দেশে ঢাকা থেকে কুমিল্লা হয়ে চট্টগ্রাম অথবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া হয়ে সিলেট যাওয়ার সময় রাস্তার দুই পাশে আমরা যে ধরনের বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ দেখে থাকি, সুদূর বাহরাইনের বারবার গার্ডেনেও এমন সমাহার দেখেছি। তবে ওই দেশের সবজি আরও উন্নতমানের এবং চাষের পদ্ধতিও আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক। সব ধরনের প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ কতটুকু পানি, আলো, ফারটিলাইজার বা তাপমাত্রা প্রয়োজন হবে তা বৈজ্ঞানিক উপায়ে নির্ণয় করা হয়ে থাকে বিধায় ও দেশের সবজি দেখার মতো হয়ে থাকে। তা-ই তো কঠোর পরিশ্রম এবং আধুনিক কৃষিব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে ওই দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিরা সবজি চাষে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন। মরুর বুকে শাকসবজি ফলিয়ে অনেকেই এখন স্বাবলম্বী এবং সফল উদ্যোক্তা।
মরুভূমির দেশে এই সতেজ, সবুজ, টাটকা সবজির ব্যাপক ফলন দেখে মুগ্ধ হয়েছি। আর আমাদের দেশের লোকেরাই তা সুদূর বাহরাইনের কৃত্রিম মাটিতে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে উৎপাদন করছে। যে লোকগুলো নিজের দেশে অভাবের তাড়নায় পেটপুরে দুবেলা দুমুঠো ভাত খেতে পাননি এবং অন্যরা যাঁদের অবজ্ঞার চোখে দেখেছে, সেই লোকগুলোই তাঁদের বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে সোনা ফলাচ্ছেন।
বাহরাইনে সুন্দর রাস্তাঘাট ও ট্রান্সপোর্টের সুব্যবস্থা থাকার ফলে এসব সবজি বিভিন্ন মার্কেটে বিক্রি করতেও কোনো অসুবিধা হচ্ছে না এবং বিক্রির টাকা নিয়ে নিরাপদে তাঁরা ঘরে ফিরছেন। হোটেল-রেস্টুরেন্টগুলোতে গ্রিন সালাদের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। খাবারের তালিকায় পর্যটকদের কাছে গ্রিন সালাদ একটি আকর্ষণীয় আইটেম। বাহরাইনের সামগ্রিক উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। তাদের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাহরাইনিদের মাথাপিছু গড় আয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার মার্কিন ডলার। অথচ কিছুদিন আগেও তেল ও মাছ ছাড়া তাদের নিজস্ব সম্পদ বলতে তেমন কিছুই ছিল না। বর্তমানে শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ফলে এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তাদের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের প্রবাসী শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম। বাহরাইনের এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রবাসী শ্রমিকদের অবদান খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
বাহরাইনে বাংলাদেশের জন্য একটি চমৎকার জনশক্তি রপ্তানির বাজার গড়ে উঠছে। দেশটিতে প্রাচুর্যের অভাব নেই বিধায় রাস্তাঘাট ও দালানকোঠা নির্মাণসহ আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিদিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ফলে প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য কর্মসংস্থানের দ্রুত প্রসার ঘটছে। জনশক্তি রপ্তানির এ সম্ভাবনাময় বাজারের প্রতি আমাদের আরও যত্নবান হওয়া বাঞ্ছনীয়। পৃথিবীর মানচিত্রে সমৃদ্ধিশালী দেশগুলোর তালিকায় আরব দেশগুলোর অবস্থান প্রথম সারিতে। আর বাহরাইন আরব দেশগুলোর মধ্যে একটি অন্যতম ধনী দেশ। যেহেতু এই ধনী দেশটিতে ক্রমেই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং দক্ষ শ্রমিকের চাহিদা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে, সেহেতু বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যার প্রতি দৃষ্টি রেখে শিক্ষিত, অশিক্ষিত ও স্বল্পশিক্ষিত বেকারদের যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় জনশক্তি রপ্তানি করা গেলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের চাহিদা যেমনি বাড়বে তেমনি তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে আরও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
♦ লেখক : গবেষক ও প্রাবন্ধিক