কিশোরগঞ্জে বিএডিসির ২২০ টন আমন ধানের বীজে পোকা ধরার অভিযোগ উঠেছে। পোকায় ধরা বীজ রিগ্রেডিংয়ের পর প্যাকেট করলেও অঙ্কুরোদগমে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিএডিসির বীজ উৎপাদন কেন্দ্রে উৎপাদিত দাবি করা ২২০ টন ব্রি-৪৯ জাতের ধানের বীজের পুরোটাতেই পোকা ধরেছে। এরই মধ্যে ১০ টন বীজ ডিলারদের সরবরাহের জন্য ৩ জুন বিএডিসির বীজ বিপণন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তখনই বীজে পোকা ধরার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে বীজ বিপণন কেন্দ্রের উপপরিচালক দ্রুত পোকামুক্ত বীজ সরবরাহের জন্য সংশ্লিষ্ট উৎপাদন কর্তৃপক্ষকে এবং বিষয়টি অবগত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন। চিঠিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ বিতরণ বর্ষে বিএডিসির উৎপাদন শাখা থেকে বরাদ্দ পাওয়া ১০ টন ব্রি ধান-৪৯ জাতের প্রত্যায়িত বীজ বিপণন শাখায় পাঠানো হয়। বীজ যাচাইয়ে জীবিত পোকা এবং পোকায় আক্রান্ত চালের গুঁড়া পাওয়া যায়। বিএডিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ডিলাররা ইতোমধ্যে বীজ সংগ্রহের জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন। এ অবস্থায় পোকাযুক্ত বীজ বিতরণ করা হলে কৃষক ও ডিলার পর্যায়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই দ্রুত পোকামুক্ত বীজ সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ডিলার গোলাম মোস্তফা অভিযোগ করেন, টাকা জমা দিয়ে মেমো কাটার পরও চাহিদামতো বীজ পাচ্ছেন না তিনি। বীজের জন্য বারবার অফিসে গিয়ে পরিবহন ব্যয় ও ভোগান্তি বাড়ছে।

আরেক ডিলার খোরশেদ আলম বলেন, ১ জুন বীজ পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো সরবরাহ পাননি। পরে জানতে পারেন, উৎপাদন শাখা থেকে আসা বীজে পোকা পাওয়া গেছে।

ডিলার মাসুম বিল্লাহ বলেন, কৃষকের সারা বছরের প্রধান ফসল উৎপাদনের সঙ্গে ভালো বীজের বিষয়টি জড়িত। কোনোভাবেই নিম্নমানের বা ক্ষতিগ্রস্ত বীজ মাঠপর্যায়ে বিতরণ করা উচিত নয়।

বিএডিসি বিপণন শাখার সহকারী উপপরিচালক ফাতেমা নাসরিন জানান, উৎপাদন শাখা থেকে আসা বীজ যাচাই করে জীবিত পোকা পাওয়া গেছে। ডিলাররা এসব বীজ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন। বিএডিসি কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের উপপরিচালক (বিপণন) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, ব্রি ধান-৪৯ জাতের বীজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উৎপাদন কেন্দ্র থেকে ১০ টনের একটি চালান আসার পর যাচাই করে পোকাযুক্ত বীজ শনাক্ত করা হয়। তিনি বলেন, পোকাযুক্ত বীজ স্প্রে ও ফিউমিগেশনের মাধ্যমে পোকামুক্ত করা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন আক্রান্ত থাকলে বীজের অঙ্কুরোদগম ও উৎপাদনক্ষমতা কমে যেতে পারে।

সরেজমিন বিএডিসির কিশোরগঞ্জ উৎপাদন শাখার গুদামে গিয়ে দেখা যায়, পোকাযুক্ত বীজ রিগ্রেডিংয়ের পর প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, চুক্তিভিত্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সংগ্রহের কথা থাকলেও অন্য উৎস থেকে কম মূল্যে নিম্নমানের বীজ কিছু কেনা হয়েছে। আবার কেউ বলছেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে বীজে পোকা ধরেছে। বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের জন্য প্রায় ৯০০ টন আমন বীজ বরাদ্দ রয়েছে। এরই মধ্যে ব্রি ধান-৪৯ জাতের ৩১৩ টন। কিশোরগঞ্জ উৎপাদন শাখা থেকে ব্রি-৪৯ জাতের ২২০ টন সরবরাহের কথা রয়েছে।

বিএডিসি কিশোরগঞ্জ উৎপাদন শাখার উপপরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, বীজে কিছু সমস্যা ছিল, রিগ্রেডিংয়ের মাধ্যমে সেগুলো পোকামুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে প্যাকেটজাত করা এসব বীজে অঙ্কুরোদগমে কোনো সমস্যা হবে না বলে দাবি করেন তিনি।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews