বিশ্বের প্রথম ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা হতো। বাংলাদেশও ছিল ৫৫ বছর আগে পাকিস্তানের অংশ। আজকের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিচিতি ছিল রেসকোর্স ময়দান হিসেবে। যেখানে ঘোড়দৌড়ের নামে জমজমাট জুয়ার আসর বসত। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামীরা ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের তীব্র বিরোধী ছিলেন। পাশাপাশি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিও ছিলেন শ্রদ্ধাশীল। তাঁদের প্রতিশ্রুতি ছিল জুয়া নিষিদ্ধ করার। জুয়া যেহেতু শোষণের হাতিয়ার সেহেতু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু নয়, নৈতিকতার দিক থেকেও অগ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশে জুয়া নিষিদ্ধ থাকলেও অনলাইন জুয়া সমাজ ও ব্যক্তিমানুষের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনছে। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে পর্নো ছবি ও ভিডিওর সম্পর্ক থাকায় ধর্ষণের মতো অপরাধের বিস্তৃতি ঘটছে। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার অনলাইন ও অফলাইন জুয়া, বেটিং ও আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে নতুন আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই আইনটি সংসদে উত্থাপন করা হবে। হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ প্রস্তাবিত আইনের ৩৯(১) ও ৩৯(২) ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তা সংশোধন বা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে। ওই দুই ধারায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কেবল ‘বিশ্বাস’ বা ‘সন্দেহের’ ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির ডিজিটাল ডিভাইসে প্রবেশ, তল্লাশি, তথ্য সংগ্রহ, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব আছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট বাতিল করে বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন (অনলাইন/অফলাইন) ২০২৬ প্রণয়নে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন আইনে অনলাইন, রিমোট গ্যাম্বলিং, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ম্যাচ ফিক্সিং এবং স্পট ফিক্সিংয়ের মতো বিষয়গুলোকে আইনি সংজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। জুয়া নিষিদ্ধে কড়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ প্রশংসাযোগ্য। তবে আইনের নামে যাতে অপপ্রয়োগের সুযোগ না থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা দরকার। আমাদের বিশ্বাস, প্রস্তাবিত আইনটিতে কোনো ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে দ্রুত পাসের উদ্যোগ নেওয়া হবে।