রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরে পুতিন বাহিনী ইউক্রেনের যতটুকু ভূখণ্ড দখল করতে পেরেছে, মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবাননের তার চেয়েও বড় অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘বিএনই ইন্টেলিনিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটিতে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে পশ্চিমাদের ‘দ্বিমুখী নীতি’ বা ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
দখলের পরিসংখ্যানে আকাশ-পাতাল পার্থক্য: প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ১৯.৪ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ইসরায়েল লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে শুরু করে উত্তরে লিটানি নদী অতিক্রম করে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমানে লেবাননের ২০ থেকে ২৪ শতাংশ অঞ্চল ইসরায়েলের সরাসরি দখলে চলে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, গতির বিচারে ইউক্রেনের চেয়ে অনেক দ্রুত লেবাননের বিশাল অংশ কবজা করেছে ইসরায়েল।
মানবিক বিপর্যয় ও গাজার ছায়া: লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানের ফলে ইতোমধ্যেই ১০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। অভিযোগ উঠেছে, ইসরায়েল গাজায় ব্যবহৃত সেই একই ধ্বংসাত্মক কৌশল লেবাননে প্রয়োগ করছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় গ্রামগুলোকে জনশূন্য করতে সাদা ফসফরাসের মতো নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহারের পাশাপাশি বুলডোজার দিয়ে বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ আর ফিরতে না পারে।
পশ্চিমাদের দ্বিমুখী নীতি: প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনকে পশ্চিমা বিশ্ব আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে কঠোর নিন্দা জানিয়েছে এবং মস্কোর ওপর নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। কিন্তু লেবাননে ইসরায়েলের প্রায় একই ধরনের কর্মকাণ্ড এবং দখলদারিত্বের বিষয়ে পশ্চিমা শক্তিগুলো আশ্চর্যজনকভাবে নীরব। ইউক্রেনকে আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র দিলেও ইসরায়েলকে দেওয়া হচ্ছে আগ্রাসন চালানোর জন্য আধুনিক সমরাস্ত্র।
বিশ্লেষকদের মতে, লিটানি নদী পর্যন্ত 'বাফার জোন' তৈরির নাম করে ইসরায়েল মূলত লেবাননের বিশাল ভূখণ্ডকে নিজেদের স্থায়ী নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।