ইরানে আরও তীব্র আক্রমণ চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার এই ঘোষণার পর বিশ্বে জ্বালানি তেলের বাজারে বেড়েছে অস্থিরতা। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ ডলারের বেশি বেড়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৭ মিনিট পর্যন্ত বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ দশমিক ৩৩ ডলার বা ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড তেলের দাম ৫ দশমিক ২৮ ডলার বা ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৪০ ডলার হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার বাজার কিছুটা পতনমুখী ছিল। রাতে ট্রাম্পের ভাষণের আগপর্যন্ত উভয় সূচকেই তেলের দাম ১ ডলারের মতো কমে গিয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বদলে যায় চিত্র।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আমরা কাজ শেষ করতে যাচ্ছি। শিগগির এর সমাপ্তি হবে। আমরা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।
দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধ শেষ হতে চলেছে বলে জানান তিনি।
ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াঙ্কা সচদেবা বলেন, ট্রাম্পের ভাষণে ‘যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক’ তৎপরতার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ না থাকায় বাজারে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে বা নৌপথে ঝুঁকি তৈরি হয়, তবে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন জিয়াউর রহমানের সময়ের গণভোট নিয়ে যা বললেন শিশির মনির

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নৌপথে চলাচলের ঝুঁকিও বাড়ছে। গতকাল কাতারের জলসীমায় কাতার এনার্জির লিজ নেওয়া একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরান ক্রুজ মিসাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাবের দিকে বিনিয়োগকারীদের নজর থাকায় চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে স্বর্ণের দাম। গতকাল মার্কিন ডলারের দরপতন হওয়ায় গত দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকাল ৪টা ৯ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪৭২৮ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে স্বর্ণের ফিউচার প্রাইস ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪৭৫৫ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছেছে।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে স্পট গোল্ডের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমেছিল। ইরান যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে শিথিল মুদ্রানীতির প্রত্যাশা থেকে সরে এসেছিল বাজার।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৭০ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১৯৪২ দশমিক ৮০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৪৬৪ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৪ দশমিক ৭০ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ১৯৪২ দশমিক ৮০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৪৬৪ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।