ফ্রান্সিস টিয়াফোকে ৬-৩, ১-৬, ৬-০ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ATP Masters 1000 শিরোপা জিতলেন ২২ বছর বয়সী ফরাসি তারকা; ২০১৪ সালের পর প্রথম ফরাসি হিসেবে এই ট্রফি তার।
চোটের কারণে দীর্ঘ বিরতি, বারবার ফিরে আসা এবং মাস্টার্সে একের পর এক গভীর রান—সবকিছুর পর অবশেষে আর্থার ফিলস পেলেন সবচেয়ে বড় পুরস্কার। রোববার সিনসিনাটি ওপেনের ফাইনালে ফ্রান্সিস টিয়াফোকে ৬-৩, ১-৬, ৬-০ গেমে হারিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ATP Masters 1000 শিরোপা জিতেছেন ২২ বছর বয়সী ফরাসি। দুই কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৯৯০ সালে মাস্টার্স সিরিজ চালুর পর এটিই প্রথম ফাইনাল।
শুরু থেকেই ফিলস ছিলেন দুর্দান্ত। প্রথম সেটে ৩-০ এগিয়ে গিয়ে প্রথম ১৩ পয়েন্টের ১২টিই জিতে নেন তিনি। শক্তিশালী টপস্পিন ফোরহ্যান্ড, নিখুঁত সার্ভ এবং আক্রমণাত্মক শটের সামনে টিয়াফোকে ক্রমাগত পেছনে ঠেলে দেন ফরাসি তারকা। মাত্র ২৮ মিনিটেই প্রথম সেট নিজের করে নেন তিনি। দ্বিতীয় সেটে অবশ্য ফিলসের ছন্দ কিছুটা নেমে গেলে টিয়াফো ৬-১ গেমে সেট জিতে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন।
কিন্তু তৃতীয় সেটে আর লড়াই জমেনি। দ্বিতীয় সেটের পর ডান দিকের নিচের পিঠ বা নিতম্বের সমস্যায় মেডিকেল টাইমআউট নেন টিয়াফো। তৃতীয় সেটে তাঁর চলাফেরায় সেই চোটের প্রভাব স্পষ্ট ছিল। ফিলস অবশ্য প্রতিপক্ষের সমস্যার মধ্যেও নিজের আক্রমণাত্মক টেনিস ধরে রেখে ৬-০ গেমে সেট জিতে শিরোপা নিশ্চিত করেন। এই জয় তাঁর সাম্প্রতিক দুর্দান্ত ফর্মেরও স্বীকৃতি—শেষ ছয়টি ম্যাচে টপ-১০ খেলোয়াড়দের বিপক্ষে তাঁর রেকর্ড এখন ৪-২।
ফিলসের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ চোটের লড়াইও। ২০২৫ সালের মে মাসে পিঠে স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে ফরাসি ওপেন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর প্রায় নয় মাস কোর্টের বাইরে ছিলেন তিনি। সেই সময়কে কাজে লাগিয়ে ফোরহ্যান্ড, সার্ভ ও মুভমেন্টে উন্নতি করেন। ফেরার পর দোহায় ৫০০-স্তরের টুর্নামেন্টের ফাইনাল, একাধিক মাস্টার্স সেমিফাইনাল এবং বার্সেলোনা ওপেনের শিরোপা জেতেন। মে মাসে আবার নিতম্বের চোটে ছিটকে গেলেও ফিরে এসে মন্ট্রিয়লে কোয়ার্টার ফাইনাল এবং এবার সিনসিনাটিতে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় শিরোপা জিতলেন।
সিনসিনাটির এই সাফল্যে সোমবার ক্যারিয়ারসেরা ১১ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ে উঠবেন ফিলস। একই সঙ্গে ২০১৪ সালে টরন্টোতে জো-উইলফ্রিড সঙার পর প্রথম ফরাসি হিসেবে ATP Masters 1000 শিরোপা জিতলেন তিনি। সামনে ইউএস ওপেন—যেখানে জ্যানিক সিনার খেলছেন না, আর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কার্লোস আলকারাজও কবজির চোট কাটিয়ে ফিরছেন। নিউইয়র্কের বড় মঞ্চে ফিলসের গতিময়, সাহসী ও দর্শক-সম্পৃক্ত টেনিস তাই এবার আরও বড় আলোচনার বিষয় হতে পারে।