প্রথমেই এটি পরিষ্কার করা প্রয়োজন যে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা পুনঃসমঝোতার পদ্ধতিটি প্রচলিত বিচারপ্রক্রিয়ার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নয়; বরং এর পরিপূরক হিসেবে কাজ করে থাকে। শুধু বিচার করলে সমাজে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষোভ ও বিভাজন থেকে যেতে পারে। আবার শুধু সমঝোতা বা ক্ষমা করে দিলে অনেক অপরাধীরই পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই সহিংসতা-পরবর্তী সমাজে টেকসই শান্তির জন্য এই দুইয়ের সংমিশ্রণের প্রয়োজন দেখা দেয়।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে, যেমন সিয়েরা লিওন, রুয়ান্ডা কিংবা আর্জেন্টিনায় একই সঙ্গে বিচার ও পুনঃসমঝোতার কার্যক্রম পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। এমনকি রিকনসিলিয়েশন বা পুনঃসমঝোতার একটি প্রেক্ষাপট তৈরি হলে, সেখানে সব পক্ষের অংশগ্রহণ সাপেক্ষেই প্রক্রিয়াটি শুরু হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষ থেকেও সত্য প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করার সুযোগ থাকে।
দ্বিতীয়ত, কোনো রাজনৈতিক সরকারের আমলে বিভিন্ন পেশাজীবী অন্যায়ভাবে যে সুযোগ-সুবিধা ভোগ এবং সেই আমলের নানা অন্যায়-অপরাধকে উপেক্ষা করে গেলেও এ জন্য অনেক ক্ষেত্রে তাঁদেরকে কোনো ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করা যায় না। কিন্তু আমরা দেখছি জুলাই অভ্যুত্থানকালে হত্যার অভিযোগ এনে আওয়ামীপন্থী বিভিন্ন পেশাজীবীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এটি একটি উভয়সংকট পরিস্থিতি। কেননা, একদিকে সাধারণ মানুষ সুবিধাভোগীদের শাস্তির বিষয়টি প্রত্যাশা করেন। অন্যদিকে খুন বা সহিংসতার মতো ফৌজদারি অপরাধ না করেও সেই অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বছরের পর বছর কারাবন্দী থাকাও যেকোনো নাগরিকের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
আমাদের ভেবে দেখা প্রয়োজন, কোনো একটি শাসনামলের সুবিধাভোগীদের শাস্তি দিতে গিয়ে কোনো অপরাধে যুক্ত ছিল না, এমন সমর্থক-কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে কি না? এই উভয়সংকট এড়াতেও একটি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’ কমিশন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।