ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের অধীন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওই সন্ধ্যায় একটি ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চলছিল। কিন্তু খুব দ্রুতই সেটি রূপ নেয় উদ্যানে চলাফেরা করা মানুষের প্রতি হয়রানিতে।
পুলিশের অযাচিত আচরণের কারণ জানতে চেয়ে উত্তর পাওয়ার বদলে হামলার শিকার হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম উদ্দিন। তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি লাঠিপেটার সময় এক পুলিশ সদস্যকে বলতে শোনা যায়, ‘ছোট ভাই, আরগুমেন্ট বেশি করতেছ।’ অর্থাৎ পুলিশের অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলা বা যুক্তি খণ্ডন করাটাই ওই শিক্ষার্থীর ‘অপরাধ’ বলে বিবেচিত হয়েছে। একই সময়ে সেখানে দায়িত্বরত এক সাংবাদিকও পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের স্বেচ্ছাচারী আচরণ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা দায়মুক্তি এবং ওপর মহলের সমর্থন এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ে বসে থাকা নীতিনির্ধারকেরা যখন এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহারকে প্রশ্রয় দেন, তখন মাঠপর্যায়ে মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত হওয়াটা স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হয়।
সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্যেও সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা গেছে। কিশোরদের রাতে ঘোরাফেরা বন্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, রাতে বের হলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। ‘এতে সংবিধান লঙ্ঘন হলেও পরে দেখা হবে।’
দেশের নীতিনির্ধারকেরা যদি প্রকাশ্যে সংবিধান লঙ্ঘন করাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দেন, সে দেশে পুলিশের যেকোনো ইউনিট নিজেদের আইনের চেয়ে শক্তিশালী মনে করবে, এটাই স্বাভাবিক।