আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধসহ একাধিক জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার দুপুরে রাজধানীর শ্যামলীতে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন স্বাস্থ্য সেক্টর–এর সভাকক্ষে “রোডক্র্যাশ রোধে নিরাপদ ঈদযাত্রায় করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় এসব সুপারিশ উঠে আসে।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান সরকার। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট করেছে। তিনি মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ, চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার ওপর জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, ঈদের আগে ও পরে মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণ, স্পিডগানের মাধ্যমে অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, টোল প্লাজায় ডিজিটাল বুথ বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা জরুরি।
সভায় মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাইওয়েতে দুর্ঘটনা কমাতে পর্যাপ্ত হাইওয়ে পুলিশ মোতায়েন এবং বাস টার্মিনাল থেকে ফিটনেসবিহীন বাস বের হওয়া বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
জামিউল আহ্ছান শিপু বলেন, ঈদের সময় টোল প্লাজা ও সেতু এলাকায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। এ সমস্যা সমাধানে বুথ সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন।
আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেন, দেশে আইন থাকলেও এর ফাঁকফোকরের কারণে অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যায়। সড়ক পরিবহন আইনের দুর্বলতা দূর করে কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তৌহিদুজ্জামান তন্ময় বলেন, দুর্ঘটনার শুধু সংবাদ নয়, কারণ অনুসন্ধান ও ফলোআপ প্রতিবেদন আরও গুরুত্ব দিয়ে করা প্রয়োজন, যাতে নীতিগত পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়।
সভায় সঞ্চালক শুভ্র দেব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থা বা ব্যক্তির দায়িত্ব নয়; এটি সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া উপস্থিত সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে মানসম্মত হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, সর্বোচ্চ দুই আরোহী নিশ্চিত করা, বেপরোয়া লেন পরিবর্তন ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং বন্ধে কঠোর নজরদারি এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা জোরদারের সুপারিশ করেন।
সভায় বলা হয়, “সেইফ সিস্টেম”–এর আলোকে সড়ক নিরাপত্তা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে ঈদযাত্রাসহ সারাবছরই সড়ক আরও নিরাপদ করা সম্ভব হবে।