ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা জেন-জি প্রজন্মের কাছে প্রযুক্তি দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সময় দেখার জন্য স্মার্টফোন, স্মার্টওয়াচ কিংবা ল্যাপটপ সহজলভ্য হলেও নতুন এক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তরুণদের মধ্যে। সময় দেখার প্রয়োজন না থাকলেও ফ্যাশন ও ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশ হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পুরনো ধাঁচের এনালগ ঘড়ি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল ডিভাইসের ভিড়ে অনেক তরুণই এখন অতীতের সঙ্গে এক ধরনের সংযোগ খুঁজছেন। ফলে পুরনো বা ভিনটেজ ঘড়ির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে উল্লেখযোগ্য হারে।
এর উদাহরণ ২২ বছর বয়সী ইভান ফ্রাই। ডিজিটাল যুগে জন্ম নেওয়া এই তরুণের সংগ্রহে রয়েছে ৩৫টিরও বেশি দামী ঘড়ি। কিছু ঘড়ির মূল্য লাখ টাকারও বেশি। ইভানের ভাষ্য, পুরনো ঘড়ি পরলে ইতিহাসের একটি অংশ যেন নিজের সঙ্গে বহন করার অনুভূতি তৈরি হয়।
ভিনটেজ ঘড়ি বিক্রেতারা বলছেন, তাদের ক্রেতাদের বড় একটি অংশই তরুণ। অনেকেই ঘড়ির কার্যকারিতার চেয়ে এর নকশা ও সৌন্দর্যকে বেশি গুরুত্ব দেন। এমনও দেখা যায়, কেউ কেউ ঘড়ির কাঁটা দেখে সময় পড়তে না জানলেও শুধুমাত্র ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হিসেবে ঘড়ি কিনছেন।
এদিকে ঘড়ি ব্যবহারে লিঙ্গভিত্তিক প্রচলিত ধারণাও বদলে যাচ্ছে। ছোট ডায়ালের ঘড়ি, যা একসময় নারীদের জন্য উপযোগী বলে বিবেচিত হতো, এখন অনেক তরুণের কাছেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রজন্মের কাছে ব্যক্তিগত স্টাইলই প্রধান বিষয়; লিঙ্গভিত্তিক বিভাজন নয়।
গবেষকরা মনে করছেন, সারাক্ষণ স্ক্রিননির্ভর জীবনের বাইরে বাস্তব ও স্পর্শযোগ্য কোনো কিছুর প্রতি আকর্ষণ থেকেই এই প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক তরুণ দামী ঘড়িকে বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবেও দেখছেন।
সব মিলিয়ে, এনালগ ঘড়ি এখন আর শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়। জেন-জি প্রজন্মের কাছে এটি ব্যক্তিত্ব, নস্টালজিয়া এবং ফ্যাশনের এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছে।