জামায়াতে ইসলামীর আমির এবং জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব এবং আদায় করেই ছাড়ব। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাগপার সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জাগপার সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবীর, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, জাগপার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ সফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান সংসদে সদস্য হিসেবে যারা প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন, তাদের সবাই মজলুম। এদের মধ্যে কেউ জেল খেটেছেন, কেউ আয়নাঘরে ছিলেন, কেউ ফাঁসির মঞ্চ থেকে ফিরে এসেছেন। আবার কেউ নির্বাসনের পরও দেশে ফিরে এসেছেন। এ রকম লোকদের নিয়েই আমাদের বর্তমান সংসদ। তিনি বলেন, এই সংসদ যদি মজলুম জনগণের দুঃখ না বুঝে, তাহলে কোন সংসদ বুঝবে? ৫৪ বছর ধরে দফায় দফায় যে ফ্যাসিবাদ বাঙালি জাতিকে এগিয়ে যেতে দেয়নি, সেই ফ্যাসিবাদকে ২৪-এর বিপ্লবীরা বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে মেরেছিল। নালা-নর্দমায় ফেলে দিয়েছিল। এখন সেই নর্দমা থেকে এটাকে তুলে আনতে চায় কারা? বিরোধীদলীয় এ নেতা বলেন, মনে রাখা দরকার, এ প্রজন্ম যখন জেগে উঠে, তখন মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আর আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। তখন তাদের বুক চিতিয়ে দেওয়া যুদ্ধই ফ্যাসিবাদীদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে এ প্রজন্মের অবস্থান এখনো স্পষ্ট। আমরা তরুণদের সঙ্গে আছি, তারাও আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা কথা দিচ্ছি, যেকোনো মূল্যে ফ্যাসিবাদকে আমরা বাংলাদেশে আর ফিরে আসতে দিব না। তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ন্যায় এবং ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে হলে, আগে দলের ভিতরে ইনসাফ এবং গণতন্ত্রের চর্চা হতে হবে। যারা নিজের দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা করতে পারে না, যাদের নিজেদের নেতা-কর্মীদের কাছে নিজেরাই নিরাপদ নয়, তারা ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তারা জনগণকে গণতন্ত্র উপহার দিতে পারবে না, ন্যায় এবং ইনসাফ জাতিকে উপহার দিতে পারবে না। তিনি আরও বলেন, এই সংসদ মানুক আর না মানুক, গণভোটের রায় আমরা বাস্তবায়ন করব এবং আদায় করেই ছাড়ব। আমরা চেয়েছি, সংসদের ভিতরে ইতিবাচক এবং গঠনমূলক বিতর্কের মধ্য দিয়ে জনগণের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন হোক। কিন্তু এই সংসদ আমাদের আকাক্সক্ষাকে উপলব্ধি এবং সম্মান করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেজন্য আমরা জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য জনগণের কাছেই ফিরে যাচ্ছি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যেদিন গণভোটের রায়কে অস্বীকার করা হয়েছে, সেদিন থেকে আবারও বাংলাদেশে নতুন করে ফ্যাসিবাদের যাত্রা শুরু হয়েছে। আমরা এই যাত্রা থামিয়ে দেব ইনশাল্লাহ।