অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইতিহাসে প্রথমবার ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। সেটাও এক ম্যাচ হাতে রেখেই। এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হোয়াইট ওয়াশের হাতছানি টাইগারদের।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচ যেন হয়ে উঠেছে নতুন ইতিহাস লেখার মঞ্চ। যাদের মুখোমুখি হওয়াটাই ছিল স্বপ্নের মতো, ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে একটা ম্যাচ জেতার জন্য— তাদের বিপক্ষে অনন্য এক কীর্তি গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ।
অধরা জয়, আরাধ্য সিরিজ জয়— প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ দল ইতিহাস গড়েছে। এবার শেষ ম্যাচে তা পূর্ণতা দেয়া পালা। সেই লক্ষ্যেই আজ মিরপুরে নামছে টাইগাররা। রোববার খেলা শুরু বেলা এগারোটায়।
শেষ ওয়ানডেতে জিততে পারলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হোয়াইটওয়াশ করবে টাইগাররা। ওয়ানডে ইতিহাসে তিন বা ততোধিক ম্যাচের সিরিজে তিন প্রতিপক্ষের সাথে মাত্র ছয়বার হোয়াইটওয়াশ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
অজিদের বিপক্ষে ইংল্যান্ড তিনবার, দক্ষিণ আফ্রিকা দুবার ও নিউজিল্যান্ড একবার এই কীর্তি গড়েছে। আজ জিততে পারলে বাংলাদেশ হবে সেই বিরল তালিকায় নাম লেখানো চতুর্থ দেশ।
এর আগে অজিদের বিপক্ষে যতগুলো দ্বিপক্ষীয় সিরিজই খেলেছে বাংলাদেশ, সবগুলোতেই হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল। এবার যেন সেই ইতিহাসই বদলে যাওয়ার পথে। অজিরাই মাঠে নামছে সান্ত্বনার জয় পেতে।
বাংলাদেশের এমন দিনবদলের কারিগর পেসাররা। প্রতিপক্ষের ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছেন মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানারা। ব্যাটারদের ঘায়েল করেছেন ম্যাচের পর ম্যাচে।
এই বছর ৮ ওয়ানডেতে ৫৪টি উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের পেসাররা। এখানে তাদের ধারেকাছে নেই ক্রিকেট বিশ্বের আর কোনো দল। ৮ ম্যাচেই ৩৩ উইকেট নিয়ে দুইয়ে আছে নেপাল। বুঝাই যাচ্ছে পার্থক্য কতটা।
তবে শুধু পেসাররা নয়, ইতিহাস গড়তে গেলে তিন বিভাগেই ভালো করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে এসে সৌম্য সরকারও দিয়েছেন সেই বার্তা। বলেন ‘যারা তিন বিভাগেই ভালো করবে, তারাই জিতবে।’
ম্যাচটা জিতলে যেমন ইতিহাস গড়বে টাইগাররা, র্যাঙ্কিংয়েও উন্নতি হবে তাদের। ইংল্যান্ডকে হটিয়ে উঠে যাবে ৮ নম্বরে। সেই সাথে ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার পথে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে মেহেদী মিরাজের দল।
যদিও সহজ হবে না। প্রথম দুই ম্যাচে তাদের অহমে বেশ চোট লেগেছে, দর্প চুর্ণ হয়েছে। ফলে ঘুরে দাঁড়াতে মরণ কামড় দেবে তারা। ফলে অন্ধ আত্মবিশ্বাস নয়, সতর্ক থাকতে হবে স্বাগতিকদের।