ইরানের পালটা হামলার প্রভাব এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়, ইসরায়েলের ভেতরেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একদিকে বাড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র আতঙ্ক, অন্যদিকে রাস্তায় নামছে সাধারণ মানুষ। যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠছে তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহর।
ইসরায়েলের ইতিহাসে বহু সংঘাত থাকলেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও যুদ্ধ বন্ধের দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ হচ্ছে।
শনিবার তেল আবিবে শত শত বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে যুদ্ধবিরোধী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে লেখা ছিল বোমা নয় আলোচনা চাই, অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলি তৃণমূল সংগঠন স্ট্যান্ডিং টুগেদার এর সহ পরিচালক অ্যালন লি গ্রিন বলেন, তারা ইরান, লেবানন, গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানাচ্ছেন।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। বাড়ছে জ্বালানি, খাদ্য, পরিবহনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কমছে আয়। দিনরাত বাঙ্কারে কাটাতে হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ভেঙে পড়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, একটি রকেট বা ড্রোন আঘাতের আগেই সতর্ক সাইরেন বেজে ওঠে, এতে পুরো শহরের মানুষকে আশ্রয়ে যেতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতিতে মানুষের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে।
এদিকে অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে দ্রুত। যুদ্ধ চালাতে প্রতি সপ্তাহে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে। মুদ্রার মানেও প্রভাব পড়ছে বলে জানা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক ইসরায়েলি দেশ ছাড়ছেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ দেশত্যাগ করেছেন। নিরাপত্তাহীনতা ও বাড়তি ব্যয়ের চাপ এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মিশর সীমান্ত এখন অনেকের জন্য বের হয়ে যাওয়ার পথ হয়ে উঠেছে। তাবা ক্রসিং দিয়ে যাতায়াত বাড়ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট সীমিত হয়ে পড়ায় বিকল্প পথ খুঁজছেন অনেকে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্যও দিচ্ছে ইসরায়েল। রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, সংঘাতের মধ্যেই প্রায় ২০ হাজার ইহুদি দেশে ফিরে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, চলমান সংঘাত ইসরায়েলের ভেতরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ড
বিডি প্রতিদিন/আশিক