চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় ট্রাক্টরের সাথে সংঘর্ষে আরিফুল ইসলাম (৪৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা আরো দুইজন আহত হন।
রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার শিয়ালমারী পশুরহাট সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাক্টর পুলিশ আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে।
নিহত আরিফুল উপজেলার সেনেরহুদা গ্রামের মরহুম মসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি কয়েক মাস আগে প্রবাস থেকে দেশে ফিরে আসেন।
আহতরা হলেন—সেনেরহুদা বসতিপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে ফারুক হোসেন (২৮) ও নিহত আরিফুল ইসলামের বন্ধু সোহেল। আহত দু’জনকে প্রথমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, আরিফুল ইসলাম, ফারুক হোসেন ও সোহেল একটি মোটরসাইকেলে করে উথলী এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শিয়ালমারী পশুরহাটের কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা কেরু চিনিকলের একটি ট্রাক্টরের সাথে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেলটি ট্রাক্টরের ট্রলির নিচে ঢুকে পড়ে। এতে আরিফুল ইসলাম গুরুতর আহত হয়ে টনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা অপর দুই আরোহী সোহেল ও ফারুক হোসেন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহত দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা: হাসিবুর রহমান জানান, রাত ৮টার কিছু আগে তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপর দুইজন আহত হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আরিফুলের মামা জিহাদ হোসেন বলেন, ‘বেশ কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার বোনের স্বামীর মৃত্যু হয়। অনেক কষ্ট করে আমার বোন একমাত্র ছেলেকে বড় করেছেন। আজ তারও একইভাবে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল। এই শোক আমার বোন কীভাবে সইবে জানি না।’
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান সেখ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়। নিহত ব্যক্তির লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। ঘটনার ব্যাপারে কোনো মামলা না হলেও ঘাতক ট্রাক্টর আটক করে থানা হেফাজতে নেয়া হয়েছে।