সন্তানের ভরণপোষণের টাকা বকেয়া রাখলে আর রেহাই নয়। এমন অভিভাবকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বকেয়া থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পাসপোর্ট বাতিল করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব মার্কিন নাগরিক সন্তানের ভরণপোষণের খরচ বাবদ ২ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি বকেয়া রেখেছেন, তারা এই সিদ্ধান্তের আওতায় পড়তে পারেন। মূলত যাদের বকেয়া বেশি, তাদেরই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শনাক্ত করা হবে।
মার্কিন আইন অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে একজন অভিভাবক অন্য অভিভাবককে সন্তানের মৌলিক খরচ বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করেন। এই অর্থ সন্তানের খাবার, পোশাক, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য ব্যয় হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য, আইন মানতে বাধ্য করা এবং পরিবারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে অভিভাবকদের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।
যাদের এ ধরনের বকেয়া রয়েছে, তাদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একবার পাসপোর্ট বাতিল হলে তা আর ভ্রমণের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এমনকি বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্যতাও থাকবে না।
১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এতদিন তা খুব কমই প্রয়োগ করা হয়েছে। আগে সাধারণত পাসপোর্ট নবায়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতো।
নতুন নীতির আওতায় এখন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বকেয়া থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, নীতিটি দ্রুত কার্যকর হতে পারে। আর যাদের পাসপোর্ট বাতিল হওয়ার সময় তারা বিদেশে থাকবেন, তাদের দেশে ফিরতে দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে জরুরি ভ্রমণ নথি সংগ্রহ করতে হবে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক