লিভ-ইন সম্পর্ক বা বিয়ে-বহির্ভূত একত্রে বসবাস করার পর সঙ্গী পরিত্যাগ করে গেলে তা তার জন্য কোনো ফৌজদারি অপরাধ নয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সর্বোচ্চ আদালত।
নারীদের দুরবস্থার প্রতি সহানুভূতি জানালেও ভারতের সর্বোচ্চ আদালত সোমবার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সম্মতিপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবসানকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার সুযোগ আইন দেয় না, যদিও এর সামাজিক ও মানসিক প্রভাব থাকতে পারে।
এ রায়টি এসেছে ১৫ বছর ধরে একটি লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার পর পরিত্যক্ত এক নারীর আবেদনের শুনানিতে, যার সঙ্গী এমনকি তাদের একটি সন্তান থাকা সত্ত্বেও অন্যত্র বিয়ে করেছেন। ভারতের সর্বোচ্চ আদালত বলেন, এটি সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ক হওয়ায় যৌন হয়রানি ও শোষণের অভিযোগে ফৌজদারি মামলা গ্রহণযোগ্য নয়।
আদালত বলেন, ‘এটি একটি সম্মতিপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং একটি সন্তানও জন্মেছে। তিনি সম্পর্ক ছেড়ে চলে গেলে তা অপরাধ নয়। সম্পর্ক যখন সম্মতিপূর্ণ, তখন অপরাধের প্রশ্নই বা কোথায়? বিয়ের আগে সে কেন তার সঙ্গে থাকতে গেল? তারা বিয়ে করতে পারত। এখন সে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করছে।’
উক্ত নারীর আইনজীবী দাবি করেন যে, বাদী ১৮ বছর বয়সে বিধবা ছিলেন এবং বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তাকে সম্পর্কে জড়ানো হয়। আদালত মন্তব্য করেন, ‘এমন সম্পর্কে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই এবং মানুষকে এ ধরনের সম্পর্কের অনিশ্চয়তা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।’
তবে আদালত জানান, ওই সম্পর্ক থেকে জন্ম নেয়া আট বছর বয়সী সন্তানের জন্য তিনি ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন। এ বিষয়ে মধ্যস্থতার প্রস্তাব আসায় সীমিত পরিসরে সেই বিষয়েই নোটিশ জারি করা হয়।