একটা সময় ছিল, যখন একটার বেশি প্রেম করা সমাজে অন্যায়ের চোখে দেখা হতো। বিয়ে তখনকে জন্ম-জন্মান্তরের বন্ধন হিসেবে গণ্য করা হতো। সেই দিনগুলো আর নেই। সমাজ বদলেছে, এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সম্পর্কের ধরনও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

আজকের আধুনিক ডেটিং দুনিয়ায় ঘোস্টিং, বেঞ্চিং শব্দগুলো বেশ চর্চিত। তবে সম্প্রতি তরুণদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা একটি নতুন আতঙ্কের নাম হলো‘আইসিং’। এই শব্দটি প্রথমে মিষ্টি শোনালেও, বাস্তবে এটি একটি সম্পর্কের ভিত নাড়া দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

আইসিং মূলত সেই পর্যায়, যেখানে সঙ্গী আচমকা আপনার প্রতি উদাসীন হয়ে ওঠেন। সম্পর্কের শুরুতে সব ঠিক থাকলেও হঠাৎই যেন এক অদৃশ্য দেয়াল তৈরি হয়। সঙ্গী পুরোপুরি হারিয়ে যান না, কিন্তু আগের সেই উষ্ণতা আর পাওয়া যায় না।

আইসিং বলতে কী বোঝায়?
আইসিং হলো এমন আচরণ, যেখানে একজন ব্যক্তি হঠাৎ করে তার পার্টনারের সঙ্গে ঠান্ডা আচরণ শুরু করেন। দুজনের মধ্যে ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হয়। আগ্রহ কমে যায়, মানসিক সংযোগ হারিয়ে যায়, এবং সম্পর্কের ইমোশনাল কানেকশন ভেঙে পড়ে। একে নাম দেওয়া হয়েছে ‘আইসিং। কারণ আচরণটি বরফের মতো শীতল, নিথর এবং আবেগহীন।

অনেকে ঘোস্টিং এবং আইসিংকে মিশিয়ে ফেলেন। ঘোস্টিংয়ে সঙ্গী হঠাৎ করেই সব যোগাযোগ ছিন্ন করে উধাও হয়ে যায়। কিন্তু আইসিং আরও জটিল। সঙ্গী পুরোপুরি চলে যান না, আবার কাছেও থাকেন না। মাঝে মাঝে অনুপযুক্ত বা দায়সারা উত্তর দিয়ে যোগাযোগ টিকিয়ে রাখেন। এতে ভুক্তভোগীর মনে বিভ্রান্তি এবং অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।jago

কেন মানুষ আইসিং করেন?
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, অনেকেই সম্পর্কের দায়বদ্ধতায় জড়াতে ভয় পান। সরাসরি বিচ্ছেদের কথা বলার সাহস না থাকায় তারা আইসিংকে বেছে নেন। ঝগড়া বা অশান্তি এড়িয়ে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। অনেক সময় দেখা যায়, সম্পর্কের মধ্যে সঙ্গী অন্য কারো প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়েছেন। সরাসরি স্বীকার না করে ধাপে ধাপে বর্তমান সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যান। এতে তারা নিজেকে দোষমুক্ত রাখার সুযোগ পান।

আইসিং-এর প্রভাব
আইসিং-এর শিকার ব্যক্তি প্রায়ই মানসিক চাপ অনুভব করেন। তারা বুঝতে পারেন না, কী কারণে আচরণ বদলেছে। ক্রমাগত অনিশ্চয়তা, উপেক্ষা এবং দোলাচল মনকে হতাশ ও উদ্বিগ্ন করে তোলে। দীর্ঘ সময়ের জন্য এটি দীর্ঘমেয়াদি বিষণ্ণতা এবং আত্মবিশ্বাসের হ্রাসের কারণ হতে পারে।

আইসিংয়ের সবচেয়ে খারাপ দিক হলো অনিশ্চয়তা। সঙ্গী মাঝে মাঝে যোগাযোগ রাখায় মনে আশা জাগে-হয়তো সব ঠিক হয়ে যাবে। এই দ্বিধা একজন মানুষকে মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে বাধা দেয়। পরিষ্কার কোনো উত্তর না পাওয়ায় ভুক্তভোগী ব্যক্তি সম্পর্ক শেষ করতে পারেন না, আবার শান্তিতে থাকতেও পারেন না।

jago

আইসিংয়ের শিকার হলে যা করবেন
সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হলো সরাসরি কথা বলা। আপনার অস্বস্তি ও অনুভূতি স্পষ্টভাবে সঙ্গীকে জানান। লুকোচুরি না করে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাফ জবাব চান। অস্পষ্টতা কখনো সুস্থ সম্পর্কের লক্ষণ নয়।

সব চেষ্টার পরও যদি সঙ্গীর আচরণ বদলায় না, তবে সরে আসাই শ্রেয়। নিজের মানসিক শান্তি এবং মর্যাদা সম্পর্কের চেয়ে বড়। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কারো মনোযোগের পাওয়া অর্থহীন। নিজের ওপর ভরসা রাখুন। সুস্থ জীবনের খোঁজে এই বিষাক্ত সম্পর্ক কাটিয়ে বের হয়ে আসুন।

সূত্র: মিডিয়াম, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ও অন্যান্য

এসএকেওয়াই



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews