দখলকৃত ফিলিস্তিনের বাসিন্দাদের উদ্দেশে এক অস্বাভাবিক ও কড়া বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে যুদ্ধের এই উত্তপ্ত সময়ে। বার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে ইরানের সামরিক বাহিনীর ভারী আঘাতে ইসরাইলি বাহিনীর কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এমনকি ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও কার্যত ভেঙে পড়েছে। এখন শুধু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোই নয়, অনেক সময় সেগুলো আসার আগাম সতর্কতাও দিতে পারছে না ইসরাইলি বাহিনী।
ইরানের বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ অ্যাজেন্সির বিশ্লেষণে তুলে ধরা হয়েছে, যুদ্ধের এই অবস্থায় বলা হচ্ছে ইরানের হামলা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, সামনের দিনগুলোতে হামলা আরো তীব্রতর হবে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনীর বিরুদ্ধে হামলা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান এই যুদ্ধের শেষ করার ক্ষমতা একমাত্র ইরানেরই আছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে- কখন? উত্তর দেয়া হয়েছে এমনভাবে, যখন আগ্রাসীদের তাদের প্রাপ্য পুরোপুরি শাস্তি দেয়া সম্পন্ন হবে।
বার্তায় আরো বলা হয়েছে, এত দিন ইসরাইলের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ ও নৌ শক্তি দাঁড়িয়ে ছিল, সে শক্তির দশা এখন টালমাটাল। গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকের আকাশে উড়তে থাকা দু’টি মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানকে লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়। এর একটি বিমান গুলি করে নামানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, আরেকটি বাধ্য হয়ে জরুরি অবতরণ করেছে। ঘটনাটি দেখিয়ে বলা হয়েছে, যে ইসরাইল সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর নির্ভর করত, সেই ভরসাই এখন ভেঙে পড়ার মুখে।
গত পাঁচ দিনে ইসরাইলি বাহিনী ইরানি বাহিনীর সাথে লড়াইয়ে সাফল্য না পেয়ে ইরানের আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ভারী হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলা হচ্ছে। একইসাথে সতর্ক করা হয়েছে, এই পরিস্থিতি ইরানকে এমন এক কঠিন এবং ভাগ্যনির্ধারক সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে পারে, যার ফলে ইসরাইলকে ভাবতে হতে পারে, তেল আবিবের দখলকৃত ভূমি হয়তো মানুষের বসবাসের উপযুক্ত আর থাকবে না।
এই অবস্থায় বার্তার শেষ কথাটি ছিল সরাসরি এবং স্পষ্ট, দখলকৃত ফিলিস্তিনের ইহুদিবাদী বাসিন্দাদের জন্য হয়তো এখন অন্য কোথাও থাকার জায়গা খোঁজার কথা ভাবাই মঙ্গলজনক হবে।