ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলোর একটি হলো ইউটিউব। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এখানে নানা ধরনের ভিডিও, গান কিংবা শর্টস কনটেন্ট উপভোগ করেন। তবে বিজ্ঞাপনের ঝামেলা এড়াতে এবং আরও উন্নত অভিজ্ঞতা পেতে অনেকেই সাবস্ক্রিপশন প্ল্যান ব্যবহার করেন। বর্তমানে ইউটিউব ব্যবহারকারীদের জন্য দুটি প্রধান সাবস্ক্রিপশন সুবিধা রয়েছে ইউটিউব প্রিমিয়াম এবং ইউটিউব প্রিমিয়াম লাইট। এই দুটি প্ল্যানের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা আলাদা। তাই কোনটি আপনার জন্য উপযোগী, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
যারা ইউটিউব ব্যবহার করার সময় একেবারে ঝামেলামুক্ত অভিজ্ঞতা চান, তাদের জন্য ইউটিউব প্রিমিয়াম সবচেয়ে সম্পূর্ণ পরিষেবা। এই সাবস্ক্রিপশন নিলে ভিডিও দেখার সময় কোনো বিজ্ঞাপন দেখতে হয় না। ফলে ভিডিও দেখার ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় না। এছাড়া এই প্ল্যানে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্তভাবে ইউটিউব মিউজিক-এর প্রিমিয়াম সংস্করণও পেয়ে থাকেন। অর্থাৎ আলাদা করে মিউজিক অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন নিতে হয় না।
আরও একটি বড় সুবিধা হলো ব্যাকগ্রাউন্ড প্লে। অর্থাৎ ফোনের স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও বা অন্য অ্যাপ ব্যবহার করার সময় ভিডিও কিংবা গান চলতে থাকবে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ভিডিও ডাউনলোড করে অফলাইনে দেখার সুযোগও রয়েছে। এর সঙ্গে উন্নত ভিডিও কোয়ালিটি, পিকচার-ইন-পিকচার মোড এবং নতুন পরীক্ষামূলক ফিচার ব্যবহারের সুযোগও পাওয়া যায়।
যারা তুলনামূলক কম খরচে ইউটিউব ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য প্রিমিয়াম লাইট একটি সাশ্রয়ী বিকল্প। এই প্ল্যানে বেশিরভাগ ভিডিওতেই বিজ্ঞাপন কম দেখা যায় বা অনেক ক্ষেত্রে থাকে না।
সাম্প্রতিক আপডেটের পর এই প্ল্যানেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা যুক্ত হয়েছে। যেমন-ব্যাকগ্রাউন্ডে ভিডিও চালানো এবং অফলাইনে দেখার জন্য ডাউনলোডের সুযোগ।
তবে এখানে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই প্ল্যানে ইউটিউব মিউজিক-এর প্রিমিয়াম সুবিধা অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ করে মিউজিক ভিডিও বা শর্টস কনটেন্টে বিজ্ঞাপন দেখা যেতে পারে।
আপনি যদি নিয়মিত গান শোনেন এবং ভিডিওর পাশাপাশি মিউজিক স্ট্রিমিংও করতে চান, তাহলে ইউটিউব প্রিমিয়াম নেওয়াই বেশি লাভজনক। এতে একই সাবস্ক্রিপশনে একাধিক সুবিধা পাওয়া যায়। অন্যদিকে, যদি আপনার মূল উদ্দেশ্য শুধু ভিডিও দেখা এবং বিজ্ঞাপন কমিয়ে আনা, তাহলে প্রিমিয়াম লাইট একটি ভালো ও সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে।
সূত্র: এনগ্যাজেট
কেএসকে