পঞ্চগড়ে সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুর-ই-আলম এর বিরুদ্ধে একাধিক প্রতিষ্ঠান হইতে বেতন ভাতা গ্রহণ, ইউনিয়ন পরিষদের মোটরসাইকেল ব্যক্তিগত করা, জ্বালানি তেলের খরচ অতিরিক্ত নেওয়া ও ভিজিডি চাল পরিবহনের ভাড়া অবৈধভাবে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন দামুপাড়া এলাকার ফরিদার রহমান। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান। কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, একই সাথে হাড়িভাসা দাখিল মাদরাসার সহকারি শিক্ষক। পরিষদ হইতে সম্মানি ভাতা এবং উপজেলা ভাতা গ্রহণ করেন। সেহেতু ৭নং হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুটি প্রতিষ্ঠান হইতে বেতন-ভাতা গ্রহণ করা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও আইন বহিঃর্ভূত কাজ। এছাড়াও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ২য় পর্যায়ে প্রকল্প সমাপ্ত হওয়ায় ৭নং হাড়িভাসা ইউনিয়নে ১টি মোটর সাইকেল প্রদান করা হয়। মোটরসাইকেলটি ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর গ্রাম আদালতের কাজে ইউনিয়ন পরিষদের নিজেস্ব সম্পত্তি হিসাবে ব্যবহার করবেন। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নুর-ই-আলম তার বাসায় রেখে ব্যক্তিগত পারিবারিক কাজে ব্যবহার করছেন।
এদিকে ভিডব্লিউবি (ভিজিডি) চাল পরিবহনের গত বছরের জুলাই আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের পরিবহন ভাড়া পরিষদের হিসাব থেকে ২৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। যদিও পরিবহন খরচ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে দেওয়া হয়। চেয়ারম্যান পরিষদ থেকে মাসে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা জ্বালানি খরচ নেওয়ার নিয়ম থাকলেও গত কয়েকমাস ধরে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. সাইয়েদ নুর-ই-আলম জানান, মাদরাসায় চাকরি করি এজন্য বেতন নেওয়া হয়। আর পরিষদের বেতনভাতা সরকার দেয়, না দিলে নিবোনা। চেয়ারম্যানদের জ্বালানি ৭০০ টাকায় হয়না। যখন যত খরচ হয় আমি সেই টাকা নেই। মোটর সাইকেলটি পরিষদে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছিল, এজন্য বাসায় নিয়ে রাখা হয়েছে। সচল রাখার জন্য মাঝে মাঝে একটু চালানো হয়। তবে বিষয়গুলো দেখার আশ্বাস পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহমিদা সুলতানার।