ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া ন্যাটোর মিত্রদেশগুলোকে শাস্তি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্ভাব্য কিছু পদক্ষেপের রূপরেখা অভ্যন্তরীণ এক ইমেইলে তুলে ধরেছে প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আছে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো থেকে স্পেনের সদস্যপদ সাময়িক বাদ দেওয়া এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার মতো বিষয়। মার্কিন এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ খবর জানিয়েছেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এই কর্মকর্তা জানান, ইমেইলের নোটে কিছু নীতিগত বিকল্প তুলে ধরা হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র তার কিছু মিত্রদেশকে ‘শাস্তি’ দিতে পারে। বিশেষ করে যে মিত্রদেশগুলো ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার, আকাশপথে চলাচল বা অন্যান্য সহায়তা দিতে অনীহা প্রকাশ করেছে বা অস্বীকৃতি জানিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
কর্মকর্তা জানান, ইমেইলে বলা হয়েছে, আকাশপথ ও ঘাঁটি ব্যবহারের সুবিধা (অ্যাকসেস, বেস ও ওভারফ্লাইট বা এবিও) দেওয়া ন্যাটো সদস্য হওয়ার জন্য ‘চূড়ান্ত ভিত্তিমূল’ বা ‘অবশ্যিক সর্বনিম্ন মানদণ্ড’। পেন্টাগনের উচ্চপর্যায়ে ন্যাটো দেশগুলোকে সাজা দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাবগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ইমেইলে দেওয়া প্রস্তাবগুলোর একটিতে ‘কঠিন’ হিসেবে চিহ্নিত কিছু দেশকে ন্যাটোর গুরুত্বপূর্ণ বা মর্যাদাপূর্ণ পদ থেকে অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওদিকে ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশকে বরখাস্ত করা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে জোটটির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাকালীন চুক্তিতে জোটের সদস্যপদ স্থগিত করার কোনো বিধান নেই।’ ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ
হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরোধ করে রাখে তেহরান। এ প্রণালি জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ এবং সচল রাখতে মিত্রদেশগুলোকে সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর ডাকে খুব একটা সাড়া মেলেনি। একের পর এক দেশ তাঁর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে। ট্রাম্প তখন ন্যাটো মিত্রদেশগুলোর কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, তারা হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে নিজেদের নৌবাহিনী পাঠাচ্ছে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যেতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ ইমেইলে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে সরিয়ে নেওয়ার কোনো প্রস্তাব করা হয়নি। ইউরোপে মার্কিন ঘাঁটি বন্ধের বিষয়েও কিছু বলা হয়নি। এ বিষয়ে পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেমনটা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটো মিত্রদের জন্য এত কিছু করলেও প্রয়োজনে তারা পাশে ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিরক্ষা সদও দপ্তর নিশ্চিত করবে যেন প্রেসিডেন্টের কাছে কার্যকর বিকল্প থাকে, যাতে আমাদের মিত্ররা আর কাগুজে বাঘ না হয়ে বরং নিজেদের দায়িত্ব পালন করে।’ -রয়টার্স