মহাকাশে এক বিরল ও রহস্যময় ছায়াপথের নতুন ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হাবল মহাকাশ দূরবীন। ছায়াপথটির গঠন অনেকটা সর্পিল ছায়াপথের মতো হলেও এতে নেই কোনো স্পষ্ট সর্পিল বাহু। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি এমন এক বিরল পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে নতুন নক্ষত্র সৃষ্টি প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা মহাকাশ গবেষণায় নতুন আগ্রহ তৈরি করেছে।
এনজিসি ১২৬৬ নামের এই ছায়াপথ পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ কোটি আলোকবর্ষ দূরে এরিডেনাস নক্ষত্রমণ্ডলে অবস্থিত। বিজ্ঞানীরা এটিকে ‘লেন্সাকৃতি ছায়াপথ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এটি সর্পিল ও উপবৃত্তাকার ছায়াপথের মাঝামাঝি একটি রূপ।
ছবিতে দেখা গেছে, লালচে-বাদামি ধূলিকণার মেঘ ছায়াপথটির কিছু অংশ ঢেকে রেখেছে। বাইরের অংশ দিয়ে দূরের অন্য ছায়াপথের আলোও দেখা যাচ্ছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে উজ্জ্বল অংশ এবং চ্যাপ্টা চাকতির মতো গঠন, তবে সাধারণ সর্পিল ছায়াপথের মতো বাহু নেই।
গবেষকদের মতে, প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে ছোট একটি ছায়াপথের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল এনজিসি ১২৬৬-এর। এই সংঘর্ষের পর সেখানে দ্রুত নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং কেন্দ্রীয় অংশ বড় হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে বিপুল গ্যাস কেন্দ্রের বিশাল কৃষ্ণগহ্বরের দিকে ধাবিত হয়। এর ফলে কৃষ্ণগহ্বরটি আরও সক্রিয় হয়ে শক্তিশালী গ্যাস প্রবাহ ও জেট সৃষ্টি করে। সময়ের সঙ্গে এই প্রবল কার্যকলাপ নতুন নক্ষত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে অবশিষ্ট গ্যাস থেকেও নতুন নক্ষত্র গঠন বাধাগ্রস্ত হয়।
হাবল দূরবীনসহ অন্যান্য মানমন্দিরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ছায়াপথটির ভেতর থেকে গ্যাস বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে এবং নক্ষত্রগুলোর মধ্যবর্তী অঞ্চল খুব অস্থির হয়ে পড়েছে। বর্তমানে সামান্য কিছু নক্ষত্র গঠনের চিহ্ন শুধু কেন্দ্রীয় অংশে দেখা যায়, অন্যত্র প্রায় নেই বললেই চলে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই গবেষণা থেকে ধারণা মিলছে যে কেন্দ্রের অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর নতুন নক্ষত্র তৈরির প্রয়োজনীয় গ্যাস সরিয়ে দিয়ে বা অস্থির করে দিয়ে নক্ষত্র জন্ম প্রক্রিয়া থামিয়ে দিচ্ছে। কাছাকাছি মহাবিশ্বের মাত্র এক শতাংশ ছায়াপথ এমন বিরল রূপান্তর পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে