জিহ্বায় কামড় পড়ে একটি অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয় অনেক সময়। ব্যথা হয়, খাবার খেতে অসুবিধা হয়। কখনো অসাবধানতায়, আবার কখনো মানসিক চাপে বারবার জিভ দাঁতের নিচে চলে যায়, যার ফলে তৈরি হয় যন্ত্রণাদায়ক ঘা। কখনো এই সমস্যায় ভোগেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার।
কেন এমনটা হয়?
১. খাওয়ার সময় বা কথা বলার সময় আমরা অনেকেই হঠাৎ অসাবধানতাবশত নিজের জিভে কামড় দিয়ে ফেলেন। তীব্র একাগ্রতা নিয়ে কাজ করার সময় কিংবা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণেও কোনো কোনো সময় এমন ঘটনা ঘটে থাকে।
২.অতিরিক্ত শারীরিক কসরত বা ব্যায়াম করার সময় মুখের দ্রুত নড়াচড়ার কারণে ভুলবশত জিভ কেটে যেতে পারে।
৩. আবার মৃগী রোগ বা খিঁচুনির মতো স্নায়বিক সমস্যার কারণেও মানুষ অবচেতনভাবে নিজের জিহ্বা কামড়ে ফেলে।
৪. এ ছাড়া ঘুমের ঘোরে বা ঘুমের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস থাকলেও জিভে কামড় লাগার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
কী করবেন?
সাধারণত এই সমস্যাটি খুব বড় কোনো রোগ না হলেও এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতটি বেশ বেদনাদায়ক হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনো বিশেষ রোগ ছাড়াই ঘনঘন জিভ কাটার সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যদি দাঁতের বিন্যাস আঁকাবাঁকা হয় কিংবা চোয়ালের নড়াচড়ায় সামান্য ত্রুটি থাকে, তবে চিবানোর সময় এমনটা হতে পারে। এই ধরনের ডেন্টাল বা অর্থোডন্টিক সমস্যা থাকলে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে দাঁত পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
জিভে কামড় লাগার পর রক্তপাত হলে শুরুতেই একটি পরিষ্কার কাপড় বা টিস্যু দিয়ে ক্ষতস্থানে হালকা চাপ দিয়ে ধরে রাখতে হবে। এরপর উষ্ণ পানি বা লবণ মিশ্রিত পানি দিয়ে মুখ ভালো করে কুলকুচি করে ক্ষতস্থানটি পরিষ্কার করে নেয়া দরকার। এতে মুখের ভেতরের ব্যাকটেরিয়া দূর হয় এবং ইনফেকশন বা সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
কামড়ানোর ফলে জিভ ফুলে গেলে এবং তীব্র অস্বস্তি হলে আক্রান্ত স্থানে বরফকুচি দিয়ে ঠাণ্ডা সেঁক দেয়া যেতে পারে। ঘরোয়া উপায়ে ব্যথা কমাতে মাড়িতে লাগানোর মাউথ জেল ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকরী (চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে)। মধু লাগালেও আরাম পাবেন। এই সময়ে অতিরিক্ত মশলাদার, ঝাল কিংবা অ্যাসিডিক খাবার খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা উচিত।
জিহ্বায় প্রচুর রক্ত সরবরাহ থাকার কারণে ছোটখাটো কামড়ের ক্ষত সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে ক্ষত যদি গভীর হয় এবং চাপ দেয়ার পরেও দীর্ঘক্ষণ রক্তপাত বন্ধ না হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া দরকার। ক্ষতস্থান থেকে পুঁজ বের হলে কিংবা জ্বর ও গিলতে অসুবিধা হলে সেটিকে অবহেলা করা একদমই উচিত নয়।
ভবিষ্যতে এই ধরনের বেদনাদায়ক পরিস্থিতি এড়াতে সবসময় তাড়াহুড়ো না করে ধীরে সুস্থে খাবার চিবিয়ে খাওয়া উচিত। খাবার খাওয়ার সময়ে মনোযোগ বজায় রাখা এবং কথা বলা থেকে বিরত থাকলে জিভ কাটার আশঙ্কা কমে। এর পাশাপাশি ভালো ওরাল হাইজিন বা মুখের সামগ্রিক স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সামান্য সচেতনতা এবং সঠিক সময়ে যতœ নিলেই মুখের এই অস্বস্তিকর সমস্যা থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব। ইন্টারনেট।