প্রথম ওয়ানডের শুরুতে একাদশে ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ টস করতে সাজঘরের বাইরে যাওয়ার ঠিক আগে হঠাৎ শুনতে পান ডান হাঁটুতে ব্যথা পাচ্ছেন মুস্তাফিজ। খেলার মতো অবস্থায় নেই। টিম ম্যানেজমেন্ট তাৎক্ষণিকভাবে মুস্তাফিজের জায়গায় আরেক বাঁ-হাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৬ মাস পর ফের বাংলাদেশ দলের পক্ষে ওয়ানডে খেলেন শরিফুল। খেলতে নেমেই বাজিমাত। দল ২৬ রানে হারলেও দুর্দান্ত বোলিং করেন দীর্ঘকায় বাঁ-হাতি পেসার। ১০ ওভারের স্পেলে ২৭ রানের খরচে নেন ২ উইকেট। ডট বল নেন ৪২টি। অসাধারণ বোলিংয়ের পরও আজ সিরিজে ফেরার মহাসমীকরণের ম্যাচটির একাদশে সুযোগ পাবেন কি না শরিফুল, নিশ্চিত নয়। মুস্তাফিজু পুরোপুরি ফিট। অনুশীলনে গতকাল দারুণ বোলিং করেছেন ‘কাটার মাস্টার’। সে হিসেবে টিম ম্যানেজমেন্টকে মধুর সমস্যায় পড়তে হচ্ছে একাদশ সাজানোয়। আজকের ম্যাচের আগে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে কোটি টাকা মূলের প্রশ্ন, শরিফুল না মুস্তাফিজকে খেলাবে? মুস্তাফিজ সুস্থ, সেটা মিডিয়ার মুখোমুখিতে বলেছেন শরিফুল, ‘হ্যাঁ, মুস্তাফিজ ভাই এখন মোটামুটি আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ।’ মুস্তাফিজ-শরিফুল-এর বাইরেও টিম ম্যানেজমেন্ট আরও একটি সমস্যায় পড়েছে। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায় সৌম্য সরকার ফিরতে পারেন একাদশে। তাহলে বসবেন কে? ওয়ানডে ডাউনে খেলা নাজমুল হোসেন শান্ত, না মিডল অর্ডারে আফিফ হোসেন ধ্রুব?
বাংলদেশ খেলছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। এবারের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড অপেক্ষাকৃত খর্ব শক্তির। দলটির মূল স্কোয়াডের ১০-১২ ক্রিকেটার আসেননি। এমন একটি খর্ব শক্তির দলের বিপক্ষে বাজে ব্যাটিংয়ের খেসারত গুনেছে বাংলাদেশ। হেরেছে ২৬ রানে। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। মিরাজ বাহিনীর সিরিজে সমতা আনার ম্যাচ। নিউজিল্যান্ডের সিরিজ নিশ্চিতের ম্যাচ। এমন মহাসমীকরণের ম্যাচে টাইগারদের মূল সমস্যা মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা। নাজমুল শান্ত প্রথম বলেই গোল্ডেন ডাক মারেন। ওপেনার তানজিদ তামিম ব্যর্থ হন। লিটন আউট হন ৪৬ রানে। আফিফ ২৭ রান করেন। যদিও ওপেনার সাইফ হাসান একবার জীবন পেয়ে ৫৭ ও তাওহীদ হৃদয় ৫৫ রান করেন। অধিনায়ক মিরাজ করেন ৬, রিশাদ হোসেন ৪ রান। তার পরও মিডল অর্ডার নিয়ে ভীষণ সমস্যায় টিম ম্যানেজমেন্ট। সেজন্যই হয়তো আজ সৌম্যকে দেখা যাবে মিডল অর্ডারে খেলতে। লিটন আজ ক্যারিয়ারের ১০০ নম্বর ওয়ানডে খেলবেন। এর আগে আরও ১৩ ক্রিকেটার খেলেছেন ১০০ বা তার ওপরে ওয়ানডে।
ম্যাচ হারায় আলোচনায় উঠে এসেছে মিরপুরের উইকেট। পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পোটিং উইকেটে খেলেছিল। জিতেছিল সিরিজ। এবারও স্পোর্টিং উইকেট চেয়েছিলেন অধিনায়ক মিরাজ ও কোচ ফিল সিমন্স। প্রথম ওয়ানডেতে খেলা হয়েছে ধীরগতির উইকেটে। যে উইকেটে সঙ্গে সফরকারী ব্যাটাররা মানিয়ে নিয়ে ২৪৭ রান করে। ওপেনার হেনরি নিকোল ও মিডল অর্ডারে ডি ফক্সক্রফট হাফ সেঞ্চুরি করেন। টাইগার বোলাররা দারুণ বোলিং করেন। বিশেষ করে শরিফুল। ৬০ বলের স্পেলে ৪২টি ডট নেন। তাসকিন আহমেদ ৬০ বলের স্পেলে ৩৬টি ডট নিলেও রান দেন ৫০। উইকেটের সঙ্গে পুরোপুরি মানিয়ে টাইগার বোলাররা ৩০০ বলের ইনিংসে ডট নেন ১৬৪টি। কিউই বোলাররাও পিছিয়ে ছিলেন না। তারাও ডট নেন ১৬৬টি। প্রথম ওয়ানডের উইকেট নিয়ে মিতব্যয়ী বোলার শরিফুল বলেন, ‘আমরা যখন মিরপুরে খেলি, তখন অনেক সময় ঘাসের ওপরে খেলতে হয়। আমরা যেমন চেয়েছিলাম আমাদের টিম ম্যানেজমেন্ট উইকেট নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল। ইনশাল্লাহ পরের ম্যাচে আরও ভালো হবে’। তাহলেও আজকের ম্যাচের উইকেট একই আচরণ করবে প্রথম ওয়ানডের মতো।
প্রথম ওয়ানডে হেরে চাপে পরে গেছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জেতা খুবই জরুরি টাইগারদের। ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে বাংলাদেশকে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষ আটে থাকতে হবে। এখন নয় নম্বরে এবং নিউজিল্যান্ড ২ নম্বরে। যদি পরের দুটি ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করে, তাহলে ৮৩ পয়েন্ট নিয়ে একই অবস্থানে থাকবে মিরাজ বাহিনী। আগামী বছরের বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে জয়ের বিকল্প পথে হাঁটার কোনো রাস্তা নেই বাংলাদেশের।