ভাষাকে আত্মস্থ করা জরুরি, সংগ্রাম মানে পরগাছা হওয়া নয়; সংগ্রাম মানে নিজের শিকড়ে দাঁড়িয়ে নিজস্ব শক্তিতে বলীয়ান হওয়া, এই সত্যটি কাজী নজরুল ইসলাম গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। 

রোববার (৩১ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি। 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পূর্ব বাংলার ভাষা, পূর্ব বাংলার সংস্কৃতি এবং পূর্ব বাংলার সংগ্রাম, এগুলোও যে একটি জাতির আত্মপ্রকাশের ভিত্তি হতে পারে, তা অনেকেই কল্পনা করতে পারেন না। অথচ ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মওলানা আকরম খাঁ অসাধারণ সাহস ও দূরদর্শিতা নিয়ে সেই পথেই এগিয়েছিলেন। এই জনপদের আকাবিরদের সংগ্রামকে খাটো করে দেখা মানে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হকের প্রতি অবিচার করা।

এনসিপির এ নেতা বলেন, উপমহাদেশের বহু জাতি স্বাধীন স্বাতন্ত্র্য অর্জনের চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি। অথচ আমরা সফল হয়েও যদি নিজের ভাগ্যকে দূরে ঠেলে অন্যের ভবিষ্যতের মধ্যে নিজেদের ভবিষ্যৎ খুঁজতে যাই, তবে তা নিছক আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া কিছু নয়।  

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

নতুন বেতন কাঠামোতে যারা অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন

নতুন বেতন কাঠামোতে যারা অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমরা বারবার বন্ধুদের এসব বিষয় বোঝানোর চেষ্টা করেছি। অনেকেই শুনেছেন, কিন্তু নিজেদের অহমিকার কারণে ইতিহাসের হাতছানি উপেক্ষা করেছেন। তারা যেন নিজেদের ঐতিহাসিক সম্ভাবনাকে পদদলিত করে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে চান। 

তিনি বলেন, মুসলিম বাঙালিদের কখনো তুরানের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে, কখনো ইরানের, কখনো আরবের। কত মানুষ কতভাবে আমাদের অন্য কোথাও খুঁজতে চেয়েছে, তার হিসাব নেই। কিন্তু আমরা তো আর এতটা বিভ্রান্ত নই যে ইংরেজ হয়ে উঠব, পাঠান হয়ে উঠব কিংবা গুজরাটি হয়ে যাব। আমরা সেই জাতি, যার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক শক্তি রয়েছে। আর মুহাম্মদী আদর্শের অনুসারী হিসেবে আমরা জাতপাত, বর্ণবৈষম্য, হিংসা ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে ওঠার শিক্ষা পেয়েছি। 

আমরা পাকিস্তানের নিরাপত্তার জন্য কারও দাস-দাসী হতে চাই না জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আবার ভারতেরও কোনো পুতুল রাষ্ট্র হতে চাই না। আমাদের নিরাপত্তা বলয়, আমাদের মর্যাদা এবং আমাদের ভবিষ্যৎ, আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। 

তবে আমরা কারও প্রতি বিদ্বেষ বা হিংসার বাণী প্রচারেও বিশ্বাসী নই বলে জানান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, পৃথিবীর নানা জাতি, নানা সভ্যতা, নানা ধর্ম ও নানা সংগ্রামের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আমাদের নিজস্ব ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারি। সেই ব্যবস্থায় মর্যাদা হবে ভিক্ষা নয়, বরং আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সংগ্রামের অর্জিত ফসল।

আরও পড়ুন

আরও পড়ুন

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলন

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলন

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এই মাটির ইতিহাস, এই মাটির মানুষ এবং এই মাটির সংগ্রামের মধ্যেই আমাদের আত্মপরিচয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি নিহিত।

এনসিপির এ নেতা বলেন, জ্ঞানীদের জন্য একটি ইশারাই যথেষ্ট; তারা সময়ের ভাষা ও ইতিহাসের সংকেত বুঝতে জানে। কিন্তু অহংকারে অন্ধ মানুষের জন্য হাজারো সতর্কবার্তা, যুক্তি কিংবা চিৎকারও অনেক সময় যথেষ্ট হয় না।  

পোস্টের শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাজনীতিতে প্রজ্ঞা মানুষকে শিক্ষা দেয় বাস্তবতা বুঝতে, আর অহংকার মানুষকে সত্যের সামনে দাঁড়িয়েও অন্ধ করে রাখে। ইতিহাস সাক্ষী, যারা সময়ের ইশারা বুঝেছে, তারাই জাতিকে এগিয়ে নিয়েছে; আর যারা অহমিকার দেয়াল তুলে দিয়েছে, তারা নিজেরাও হারিয়েছে, জাতিকেও পিছিয়ে দিয়েছে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews