লন্ডনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে সৌদি আরবের ২৯ বছর বয়সী যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুলআজিজ বিন জালাউই আল সৌদের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এনিয়ে বৃটেনের এক আদালতের তদন্তে বলা হয়েছে, অ্যালকোহল, মাদক এবং প্রেসক্রিপশনের ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণের ফলে তার মৃত্যু হয়েছে। আদালত এ ঘটনাকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুহিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

বৃটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটনে অবস্থিত ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুমের মেঝেতে অচেতন অবস্থায় যুবরাজ আবদুল্লাহকে পাওয়া যায়। কক্ষটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। পরিচ্ছন্নতাকর্মী দরজা খুলে তাকে দেখতে পান এবং জরুরি সেবায় খবর দেন। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্যারামেডিকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনার আদালতের তদন্তে সিদ্ধান্ত হয়, একাধিক মাদক ও ওষুধ গ্রহণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। সহকারী করোনার জিন হারকিন রায়ে উল্লেখ করেন, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং দুর্ঘটনাবশত ঘটে যাওয়া মৃত্যু।

টক্সিকোলজি পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
আদালতে জানানো হয়, যুবরাজ আবদুল্লাহ ওই সালের ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ম্যারিয়ট হোটেলে উঠেছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের রাতে তিনি সিগারেট খাওয়ার জন্য বাইরে গিয়ে পরে একাই হোটেলে ফিরে আসেন। তদন্তকারীরা তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাননি।
টক্সিকোলজি পরীক্ষায় তার রক্তে প্রতি ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম অ্যালকোহল পাওয়া যায়, যা ইংল্যান্ডে বৈধ মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর সীমার প্রায় তিন গুণ। এছাড়া তার শরীরে প্রাণঘাতী মাত্রার গামা-হাইড্রক্সিবিউটিরেট , গাঁজার উপাদান, উদ্বেগ কমানোর ওষুধ আলপ্রাজোলাম (জ্যানাক্স) এবং আরও কিছু অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি ওষুধের উপস্থিতি শনাক্ত হয়।
ময়নাতদন্তে তার শরীরে কোনো তীব্র বা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আদালতে জানানো হয়, অ্যালকোহল ও একাধিক মাদকদ্রব্যের সম্মিলিত প্রভাবে তার হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে মৃত্যু ঘটে।

আগে থেকেই চিকিৎসাধীন ছিলেন
তদন্তে আরও জানা যায়, যুবরাজ আবদুল্লাহ আগে থেকেই অ্যালকোহলের অপব্যবহার ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতার জন্য চিকিৎসা নিয়েছিলেন। তিনি লন্ডনের রোহ্যাম্পটনের প্রায়োরি ক্লিনিকে ডিটক্সিফিকেশন কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। পরে মার্সিসাইডের রেইনফোর্ড হল পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা চালিয়ে যান।

পরামর্শক মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ভিক্টোরিয়া চামোরো আদালতে জানান, চিকিৎসায় যুবরাজ ভালো সাড়া দিয়েছিলেন এবং হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময় তাকে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে মনে করা হয়নি। যদিও পরে তিনি নির্ধারিত ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্টে উপস্থিত হননি।
সহকারী করোনার জিন হারকিন বলেন, তদন্তে এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা থেকে বোঝা যায় যুবরাজ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোটও উদ্ধার হয়নি এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততারও কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

সৌদি রাজপরিবারের ঘোষণা
সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সৌদি রাজকীয় আদালত এক বিবৃতিতে যুবরাজ আবদুল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সৌদি আরবের বাইরে মৃত্যুবরণ করেছেন। পরে রাজধানী রিয়াদের ইমাম তুরকি বিন আবদুল্লাহ মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে তারুদান্ত প্রেস যুবরাজ আবদুল্লাহকে সৌদি রাজপরিবারের একজন শান্ত, ভদ্র ও সবার শ্রদ্ধাভাজন সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি নীরবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখতেন এবং জনসম্মুখে না এলেও তার দাতব্য কাজের জন্য পরিচিত ছিলেন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews