রাজনৈতিক সমঝোতা বা আঁতাত করে তালিকা না বানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইনেই স্পষ্ট ধারা যুক্ত করে ফ্যাসিবাদের দোসর শিক্ষকদের পাঠদান থেকে বিরত রাখার তাগিদ দিয়েছেন সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। গুম, খুন ও জুলাই গণহত্যার পক্ষে সাফাই গাওয়া ব্যক্তিদের শিক্ষকতার অধিকার থাকা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক এই উপদেষ্টা এ বিষয়ে আলোকপাত করেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম লেখেন, রাজনৈতিক সমঝোতা করে তালিকা না বানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ভেতরেই একটি নির্দিষ্ট ক্লজ (ধারা) রাখা উচিত। যাতে স্পষ্ট উল্লেখ থাকবে— যারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে ছিল, সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছে কিংবা গুম, খুন, নিপীড়ন এবং জুলাই গণহত্যার পক্ষে সাফাই গেয়েছে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদানের অধিকার রাখবে না।
তিনি মনে করেন, আইনে এমন ধারা যুক্ত করা হলে কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের প্রয়োজন হবে না; বরং আপনা-আপনিই যেকোনো ফ্যাসিবাদের দালাল ও দোসররা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বাদ পড়ে যাবে।
"এভাবে সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখে, নিয়মিত সুযোগ সুবিধা দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের অধিকার কারো নেই।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ও বর্তমান প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন মাহফুজ আলম। তিনি জানান, এই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ তিনি আগেই দিয়েছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, "বিগত উপাচার্য মহোদয়কে আমরা এ পরামর্শ দিয়েছিলাম। উনারা শুনেননি। এখনো কেউ শুনবে না। কারণ, কাক কাকের মাংস খায় না।"
গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পর যে ধরণের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল, তা বাস্তবায়নে শিথিলতা দেখানো হচ্ছে। বিপরীত পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "এরকম রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পরে লীগ যদি ক্ষমতায় আসতো, প্রথমদিন এটা করতো।"