জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে এর কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। গতকাল হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনূছ আলী আকন্দ। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এর ফলাফল স্থগিত চেয়ে আরেকটি রিট করা হয়েছে হাই কোর্টে। আগামী সপ্তাহে এ রিটের শুনানি হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
গত বছর ১৭ অক্টোবর আতীয় ঐকমত্য কমিশন প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ (৩১ অক্টোবর সংশোধিত)’ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণার পাশাপাশি কেন তা বাতিল করা হবে না, জানতে রুল চাওয়া হয়েছে রিটে।
রুলের পক্ষে যুক্তি রিটে দেওয়া হয়েছে, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন, ২০১১ কে সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিদ্যমান। এরপরও জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটের আয়োজন করেছে। এই নির্বাচনকে সংবিধানের ৬৫, ১২৩(৩)(৪) অনুচ্ছেদ এবং ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১১ ধারা অনুসারে সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করা উচিত।
জুলাই সনদ নিয়ে রিট আবেদনকারী ইউনূছ আলী আকন্দ বলেন, রিটটি হাই কোর্টের কোনো বেঞ্চে মেনশন (উত্থাপন) করা হয়নি। আগামী সপ্তাহে এখতিয়ার সম্পন্ন বেঞ্চে শুনানির জন্য ম্যানশন করা হবে।
চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের যে দাবিকে আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি দিতেই জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। এর জন্য গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। গত বছর ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের সদস্যরাও জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেন। আর বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে এতে স্বাক্ষর করে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সরকার গঠনের আগের দিন গত সোমবার জুলাই সনদে স্বাক্ষর করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।