তারপরও সাড়া না পেয়ে স্পাই হোল দিয়ে ভেতরে তাকিয়ে মনে হলো, ভেতর থেকে কেউ আমাকে দেখছে, আমাকে চোখ রাখতে দেখেই সরে গেল। তিনবার এ রকম হওয়ার পর একসময় দরজাটি অল্প একটু ফাঁক হলো। লাইট জ্বলছিল না বলে দিনের বেলাও ভেতরটা বেশ অন্ধকার। শুধু দেখলাম, একটা পা দরজার পেছনে সরে গেল।
আমার ছেলে অনেক সময় দরজা খুলে পেছনে লুকিয়ে থেকে বলে, ‘আমাকে খোঁজো।’ তাই মুচকি হেসে দরজার পেছনে তাকাতেই দেখি আমার চেয়েও উঁচু একটা মানুষের অবয়ব।
শুধু এক জোড়া চোখ আর চুল দেখতে পেলাম, বাকি মুখ ঢাকা। আমাকে সে মাথার ডানে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করে। ডাইনিংরুমের ফ্লোরে পড়ে প্রচণ্ড ব্যথা পাই।
ছেলেটি তৎক্ষণাৎ দরজা বন্ধ করে ছিটকিনি লাগিয়ে দেয়। অন্ধকার ড্রয়িংরুম থেকে আরও একটা লোক এসে আমার ওপর বসে পড়ে প্রথমেই চোখজোড়া বেঁধে ফেলে। চোখ বাঁধা অবস্থায় বুঝতে পারলাম, প্রথম লোকটি আমাকে ডাইনিংরুমের ফ্লোরের সঙ্গে চেপে ধরে রেখেছে, এই ফাঁকে দ্বিতীয়জন আমার পা জোড়াও বেঁধে ফেলে। বাড়ি দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়ার পর থেকেই আমি চিৎকার করতে থাকি। তখন আমার ওপর উঠে তারা আমাকে মারতে শুরু করে। আর আমার চিৎকার থামানোর জন্য একজন তার হাত আমার মুখের ভেতর কবজি পর্যন্ত ঢুকিয়ে দেয়। আমার হাতও বাঁধার চেষ্টা চলছিল। খুব দ্রুত মাথায় অনেক কিছু খেলে যাচ্ছিল, বাসার সব লাইট নেভানো থাকলেও কিছুটা দিনের আলো বাসায় ঢোকার কথা।